Avijit Ghosh was honored with the Indian Literature Award 2026 by the Indian Literature & Arts Society under the leadership of President Pankaj Kumar and Secretary Anand Prabhakar in recognition of his contributions to Bengali literature, poetry, and independent creative expression.
His literary work includes the creation of more than 100 Bengali poems alongside independent works such as Bongo Totto, reflecting themes of philosophy, consciousness, culture, emotion, human character, and civilizational reflection within a contemporary Bengali literary framework.
Through poetry, literature, music, philosophy, visual art, and educational initiatives, he continues to explore the deeper relationship between creativity, identity, discipline, and cultural consciousness across generations.
Rooted in Bengali language and thought, his poetic work seeks not only artistic expression, but also the preservation of inner strength, intellectual awakening, cultural self-respect, and long-term creative consciousness within the Bengali community.
Across all literary and artistic domains, his work reflects an ongoing effort to integrate philosophy, emotion, creativity, and character into a unified body of long-term cultural and intellectual expression.
অগ্নিস্বরূপা - নারী শক্তি, আত্মমর্যাদা ও নেতৃত্ব
সভ্যতার প্রথম স্পর্শ - A Bengali Poetry On Women Empowerment By Avijit Ghosh
এই স্বাধীনতা দান নহে,
এ দয়া নহে, এ ভিক্ষাও নহে—
এ ইতিহাসের দীর্ঘ রক্তপথে
কাঁদিয়া কাঁদিয়া পাওয়া অধিকার-সনে।
শত বর্ষের অন্ধকারে
যে নারীর কণ্ঠ রুদ্ধ ছিল,
শিশুকালের কান্না যাহার
সমাজের দ্বারে ধূলায় মিশে গিয়াছিল—
সেই নীরব অশ্রু ভুলিলে
স্বাধীনতার মূল্য কি সত্যিই বোঝা যায়?
ভুলিও না, নারী—
তোমার আজকের স্বচ্ছন্দ গতি
আগুন পেরিয়ে আসা স্মৃতির ফল।
যে হাসি আজ স্বাভাবিক,
সে একদিন ছিল নিষিদ্ধ,
যে শিক্ষা আজ অধিকার,
সে একদিন ছিল অপরাধসম।
স্বাধীনতা মানে উন্মুক্ত প্রদর্শন নহে,
স্বাধীনতা মানে আত্মবিসর্জন নহে।
নিজেকে পণ্য করিয়া
শক্তির প্রমাণ দিতে হয় না—
শক্তি তাহাই, যাহা নিজ মর্যাদায় দীপ্ত হয়।
যে দেহ আজ বাহিরের দৃষ্টির ভিক্ষা চায়,
সে দেহ একদিন শেকলে আবদ্ধ ছিল।
যে চিত্ত আজ প্রশংসার শব্দে মাতোয়ারা,
সে চিত্ত একদিন লজ্জায় নতশির ছিল।
নারী কেবল ভোগের অধিকারী নহে,
নারী নির্মাণের আধার।
তুমি প্রথম ভাষা, প্রথম নীতি, প্রথম আদর্শের আধার।
শিশু যখন সত্য শিখে, সে গ্রন্থ হইতে নয়— সে শিখে তোমার আচরণে,
তোমার দৃষ্টিতে, তোমার নীরব শাসনে।
আজ প্রকাশ্যে সংখ্যার গৌরব,
বিশ্বাসভঙ্গের উৎসব,
চরিত্রকে কৌতুকে পরিণত করিয়া
যদি বলা হয়—“এই স্বাধীনতা”—
তবে বলি, এ স্বাধীনতা নহে, এ দায়হীন উন্মাদনা।
যে স্বাধীনতা কর্তব্য চেনে না,
সে স্বাধীনতা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
ইতিহাস তাহার সাক্ষী,
সভ্যতার পতন তাহার দলিল।
স্মরণ রেখো— সংগ্রামে অর্জিত যা কিছু,
অবিবেচনায় তাহা
আরও কঠিন শাসনে প্রত্যাবর্তন করে।
স্বাধীনতা যদি চরিত্র হারায়,
সমতা যদি দায় ভুলে যায়,
তবে সমাজ আবার “রক্ষা” করিতে চায়—
আর সেই রক্ষা সবচেয়ে ভয়ংকর শাসন।
অতএব আজও সময় আছে।
নিজেকে প্রমাণ করিবার প্রয়োজন নাই—
নিজেকে ধারণ করাই মহত্ত্ব।
কারণ নারী তুমি কেবল ব্যক্তি নও,
তুমি জাতির বিবেক।
তুমি সচেতন হলে সমাজ সংযত হয়,
তুমি দায়িত্ববান হলে সভ্যতা বাঁচে।
এই হইল সভ্যতার প্রথম স্পর্শ।
মায়ের চোখে ভবিষ্যৎ
- A Bengali Poetry On Women Empowerment By Avijit Ghosh
হে জননী, তুমি আদি শক্তি, নিখিল ভুবন-ধাত্রী,
তোমারই অঙ্কে উদিছে সূর্য, পোহায় আঁধার রাত্রি।
তুমিই রচিলে কৃষ্টি-সভ্যতা ত্যাগের রক্ত-রাগে,
অনাগত সেই শিশু-দেবতারা তব স্নেহাশিষে জাগে।
তুমিই বিধাতা, তুমিই নিয়তি, রাষ্ট্র-নির্মাণ কাজে—
কেন তবে আজ কলঙ্ক-রেখা তব ললাটিকা মাঝে?
বিস্মৃত তুমি সে প্রাচীন ব্যথা, সতীদাহ-হুতাশন,
পর্দা-প্রথার শৃঙ্খল আর বাল্য-বিবাহ রণ।
অগণিত নারী লভিয়াছে মুক্তি তপের অগ্নি-স্নানে,
সে অমর ইতিহাস কেন আজ পড়ে না তোমার মনে?
শৃঙ্খল টুটে পেয়েছিলে যবে স্বাধীনতার তেজ—
তারে কেন আজ বিলাইতে চাও করিয়া অবহেজ?
আহা মরি, একি দুর্গতি তব! পন্য করেছ কায়,
অল্প সুখেতে মত্ত হইয়া বিকাইছ আপনায়!
ক্ষণিকের তরে লভিছ তুষ্টি নগ্নতা-কারাগারে,
আপনার মান বিসর্জন দিয়া পঙ্কিল লোক-পাড়ে।
দেহ সভ্যতা দেহ-সর্বস্ব এই স্বাধীনতা কি এনেছে নব প্রাণ?
নাকি এ তোমার চারিত্রিক মহা-মর্যাদারই অবসান?
আধুনিকতার মায়াবী কুহকে আত্মসম্মান হীন,
পর-পুরুষের লালসা-তৃপ্তি— একি সে মুক্তি-দিন?
কড়ি-মায়া আর যৎসামান্য স্তুতি-প্রশংসা লোভে,
আপনা শরীর নাচাও সবারে দারুণ আত্ম-ক্ষোভে।
সহস্র চোখ হানিছে বিষাক্ত কামনার খর-শর,
তুমি ভাবিছ এ প্রগতি তোমার, একি ভ্রান্তি ঘোর!
ভুলিয়াছ তুমি সমাজ-মাতা, ভুলিয়াছ তব দায়,
আগামী প্রজন্ম কাঁদিছে আজ কালিমার ম্রিয়মাণতায়।
যদি জননীই পথভ্রষ্ট হয় কামুক আঁধার পথে,
কে তবে লবে অনাগতদের তব সত্যের রথে?
অল্প মূল্যে অমূল্য রতন ফেলিছ পথের পরে,
অন্ধকারের পিশাচদল হাসিতেছে তব ঘরে।
জাগো গো দুহিতা, জাগো গো মাতা, জাগো বিপ্লবী বেশে,
নিজের সম্মান রক্ষা করিয়া ফেরো আপন দেশে।
বাহ্যিক দেহ কভু নহে তব স্বাধীনতার সার,
পবিত্র আত্মা, উন্নত শির— সে যে তব অলঙ্কার।
চরিত্র মাঝে রচিও দুর্গ, শুদ্ধি আনো হে মনে,
সমাজ তোমারে খুঁজিছে আবার আপন আত্মজনে।
উত্থিত হও নারী-জাগরণী, ঝেড়ে ফেলো সব গ্লানি,
তুমি যে জাতির ভাগ্য-বিধাতা, তব কাছে হার মানি।
আচার-বিচার-সংস্কার-ধনে সাজাও শিশুকুলে,
রাষ্ট্র-রথ গড়ো নিজ হাতে, হীন স্বার্থ সব ভুলে।
তব পবিত্র স্নেহ-ধারায় হোক নব প্রাতঃকাল,
ঘুচিয়া যাক তব মোহ-নিদ্রা, ছিঁড়িয়া ফেলো এ জাল।
মায়ের চোখেতে ভবিষ্যৎ হোক নির্মল অনাবিল,
হৃদয় গহনে বাজিয়া উঠুক বীরত্বের ঝিলমিল।
আদর্শ লয়ে ফিরো জননী, ত্যাগ করি নগ্নতা,
তোমার হাতেই রচিত হউক আগামীর বারতা।
যাতে ইতিহাস স্মরিবে তোমারে গৌরবে অম্লান,
মুক্তির ছলে কোরো না কভু আপন সম্মান দান।
শক্তির সঙ্গে বিবেচনা
- A Bengali Poetry On Women Empowerment By Avijit Ghosh
হে আদ্যাশক্তি মহাগৌরী, তুমিই ধরিত্রী-মাতা,
তব হাতেই লিখিত আছে ভবিতব্যের গাথা।
শিক্ষা-দীক্ষা জ্ঞানের দীপে তুমিই জ্বেলেছ আলো,
তবে কেন আজ অনাদরেতে নিবিছে প্রদীপ কালো?
শক্তিরূপিণী হয়েও কেন গো মৌন বিষাদ মনে?
জাগো ভৈরবী, বিচার করো গো আপনারই ক্ষণে ক্ষণে।
অগণিত নারী পেষিত আজিকে শাসনের ঘোর রাহু,
নিপীড়িত দেহ, অবশ হয়েছে সাহসের দুই বাহু।
শৈশব হতে অমানুষিক সে লাঞ্ছনা সয়ে চলে,
রক্তাশ্রু মুছিয়া তারা কাঁদে নিভৃতের তলে।
যৌন-শোষণ দংশিছে দেহ, স্বজন বিমুখ ঘরে,
ন্যায় বিচার কাঁদিছে আজিকা অন্ধকারের পরে।
যে গৃহে মাতা লভে না বিশ্বাস, কন্যা যেখানে ত্রাস,
সেথায় কেমনে উড়িবে বল গো মুক্তির জয়-ফাস?
শিক্ষার পথে বাধা দেয় যারা আপন রক্ত হয়ে,
তাহারা কি জানে ঘটিবে প্রলয় এই অবিচার বয়ে?
সুপ্ত প্রতিভা গুমরিয়া মরে সাহচর্য বিহনে,
শক্তির অপচয় ঘটিছে আজ সমাজ-অঙ্গনে।
নারী যদি আজ না দাঁড়ায় পাশে আর এক নারীর তরে,
তবে কে ঘুচাবে এই বিভীষিকা ঘোর অমানিশা ঘোরে?
তুমিই জননী, তুমিই স্রষ্টা, গড়ো আগামীর রথ,
সন্তানদের শিখাও আজিকে ন্যায়ের আলোক পথ।
নারী ও পুরুষ মিলিবে যেখানে আদর্শ সমাজ গড়ি,
সেথায় বাজিবে সত্যের শঙ্খ বিভেদ-বিষাণ হারি।
শক্তি মানে কি স্বার্থপরতা? যথেচ্ছ ব্যবহার?
বিবাহ-বিচ্ছেদে অর্থের লোভে করা কিবা হাহাকার?
ভরণপোষণের ছলেতে শুধু কি ধনের লালসা সাজে?
শক্তি কি তবে বিকাইবে আজ হীন কামনার মাঝে?
একি প্রগতি? একি স্বাধীনতা? একি তব সম্মান?
বিবেচনাহীন ক্ষমতার মোহে করিও না বিষ পান।
বাস্তবিক সে শক্তির প্রয়োগ পরের দুঃখ হরে,
আর্তের তরে যে নারী শক্তি আপনার প্রাণ ভরে।
লাঞ্ছিত যত ভগিনী তোমার, তাদের আশ্রয় হও,
নিজেরে চিনে লও হে নারী, অন্যায়েরে নাহি সও।
আগামী দিনের প্রতিটি নরকে আদর্শে গড়ো আজ,
তোমার কোলেই রচিত হউক কলুষমুক্ত সমাজ।
উন্নত শিরে করো পদপাত, ভাঙ্গো সব জরা গ্লানি,
শিক্ষা ও জ্ঞান হোক তব হাতে অজেয় বজ্র-পাণি।
পারিবারিক সে নিগড় টুটুক, ঘুচুক মনের ভয়,
শক্তির সাথে বিবেচনাই আনিবে বিশ্ব জয়।
আত্মমর্যাদা রক্ষা করিয়া বীরদর্পে চলো,
অন্যায়ের সাথে আপোষহীন সে সত্যের কথা বলো।
শক্তির সাথে বিবেচনা তরে আজিকে তোমারে ডাকি,
নাহিকো সময় হে জাগরণী, থেকো না নিমীলিত আঁখি।
রাষ্ট্র-নির্মাণে তব অবদান সুবর্ণ অক্ষরে,
অঙ্কিত হোক ইতিহাসের এই নশ্বর চরাচরে।
মাতা ও দুহিতা একই সাথে জাগো বিদ্রোহিনী সাজে, বিবেচনা হোক শক্তির সার সকল মহৎ কাজে।
সৃষ্টির প্রথম সুর
- A Bengali Poetry On Women Empowerment By Avijit Ghosh
শোনো রে মূঢ়, সৃষ্টির মূলে নারীই আদিম প্রাণ,
মায়ের রূপেই বেজেছে ধরায় প্রথম মুক্তিগান।
নারীতেই স্তব্ধ মহাকাল আজি, নারীই সর্বোচ্চ শক্তি,
কেন তবে আজ পর-পদতলে বিলানো অন্ধ ভক্তি?
পুরুষের মতো হতে গিয়া কেন নিজেরে হারালে আজ?
পুঁজিবাদের ওই নব্য শৃঙ্খল— এ কি তব মুক্তি-সাজ?
মডার্ন হওয়ার মিথ্যে মায়ায়, স্মার্ট হওয়ার ছলে,
পুঁজিপতিদের বিলাচ্ছ সুখ পঙ্কিল লালসা-জলে।
আড়ম্বর আর বিলাসিতা দিয়ে সাজাও পাপিষ্ঠ সাজ
যৌন-তৃপ্তি দেখাইয়া তুমি মেটাতেছ কার কাজ?
আগেও ছিল গো শরীরি বাসনা, ছিল তা নিভৃত মনে
লজ্জা ও প্রেম মিশে ছিল তব কুসুমিত সেই ক্ষণে।
আজিকার ওই রাতের আঁধারে লিপিস্টিক-মেকআপে,
মত্ত হইয়া শরীর সঁপিলে কলঙ্কিত সেই পাপে।
সহস্র নরে দেহ করি দান ভাবিছ সক্ষমতা?
এ যে শৃঙ্খল, এ যে নব্য দাসত্ব, এ যে চরম ব্যর্থতা!
মদের নেশায় চুর হয়ে আজ হারাইলে শিষ্টাচার—
আধ্যাত্মিক সে জ্ঞান টুটিয়া নামিলে অন্ধকার।
বক্ষ দেখাও, নিতম্ব নাচো—একি তব অহঙ্কার?
পুঁজিবাদের ওই বণিকেরা কেনে তোমার দেহের সার।
উন্মুক্ত পাছা, অবারিত কটি—প্রগতির সাজ কি এ?
আদিম পশুর দৃষ্টি নামালে আপন অঙ্গে দিয়ে?
কণ্ঠরোধ তো তুমিই করেছ পুঁজিবাদের ওই দাসত্বে,
নিজের শ্রেষ্ঠা সত্তা হারালো কামনার কুটিল তত্ত্বে।
কোথা গেল সেই আচার-বিচার, সংস্কার-সংস্কৃতি?
কবিতা ও গান ভুলিয়া আজিকা এ কোন হীন গীতি?
নাচ তো ছিল গো সাধনার পথ, সৃষ্টির জয়গান—
আজিকার ক্লাব-নৃত্য কি তব নারীত্বের সম্মান?
ভবিষ্যতেরে গড়িবার ভার ছিল যে তোমার পরে,
মত্ত হইয়া সে দায় ত্যজিলে পিশাচের ওই ঘরে।
পুরুষের সাথে সমতা মানে কি লোলুপ হওয়ার দায়?
নিজেরে কেন গো মিশায়ে দিলে ওই ধূলিময় কায়?
নারী হওয়া মানে মহিমা অনন্য, প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ দান
পুরুষের মতো হইতে গিয়া কি হারাইলে সেই প্রাণ?
তুমিই মহান, তুমিই সর্বোচ্চ, তুমিই আদিম সুর—
পুঁজিপতিদের সেবা করিয়া কেন হলে এত ভঙ্গুর?
জাগো ওগো নারী, রণরঙ্গিণী, ভাঙো এই মায়া-জাল,
কামুক সমাজের দাবার ঘুঁটি হয়ো না আর এই কাল।
নিজের মর্যাদা রক্ষা করিয়া ধরো আগামীর রথ,
তব পবিত্র তেজে রচিত হউক বিপ্লবের সত্য পথ।
আদর্শ লয়ে ফিরে আসো ফের নিজেরই আপন ঘরে—
চরিত্র আর আত্মসম্মানেই জগত তোমারে স্মরে।
সৃষ্টির সুর তোমাতেই শুরু, তুমিই জননী-শক্তি,
তব মাধ্যমেই আসুক ধরায় ত্যাগের পরম ভক্তি।
নগ্নতা ফেলে চরিত্রে সাজো, হও গো দীপ্ত শিখা,
তব ললাটেতে আঁকা হোক আজ জয়ের তিলক-টিকা।
পৌরুষের ওই নকল মিছে মুখোশ ফেলো গো ছুঁড়ে
নিজেরে চিনে লও গো জননী, আকাশ-বাতাস জুড়ে।
গৃহ থেকেই ইতিহাস
- A Bengali Poetry On Women Empowerment By Avijit Ghosh
ঘর সে তো নয় ক্ষুদ্র গণ্ডি, ওরে অবুঝের দল,
সেথা হতেই জন্ম লভে অজেয় হিমাদ্রি-বল।
নারীর হাতেই রাষ্ট্র জাগে, জন্ম নেয় বীর সেনানী,
তব মাধ্যমেই গড়া হতো আগামীর মহা-রাজধানী।
ভবিষ্যতের যোগ্য শাসক তোমারই তো ছিল উত্তরাধিকার
কেন তবে আজ ক্ষুদ্র স্বার্থে ত্যজিলে সে গুরুভার?
আজিকে একি সে গোলামি-নেশা, কর্পোরেট মায়া-জাল!
সশক্তিকরণ নামে নামিলে নব্য এ আকাল।
পুঁজিবাদের ওই গহ্বরে তুমি আজ একি পণ্য?
কিছু স্যালারির দোহাই দিয়া নিজেরে করিলে ধন্য?
অফিস-ঘরের কোণেতে খুঁজো জীবনের সার্থকতা?
ভুলিলে কেন গো তোমারি ছিল রাষ্ট্রের সার্বভৌমতা?
বেতন-বৃদ্ধির মদিরা পানে মজিয়াছ পলে পলে,
বসের তুষ্টির তরে কি তবে কাঁদিছ গোপনে তলে?
প্রমোশনের ওই লোভের টোপে সঁপিলে আপন দেহ—
বসের কামুক লালসা মেটাতে রাখে না কি আজ কেহ?
উন্নত হওয়ার ছলনা নিয়া শরীর বিকানোর খেলা—
স্বাধীনতা খুঁজো পুঁজিবাদের ওই পঙ্কিল হাট-মেলা?
স্যালারির তরে কত শয্যায় সঁপিলে আপন রক্ত?
স্বতন্ত্র হওয়ার নামে কেন আজ হলে কামের ভক্ত?
এক প্রভুর হাত বদলায়ে খুঁজো অন্য নতুন মালিক,
লজ্জা ত্যজিয়া শরীরে আঁকো কলঙ্ক-গালি-কালীক।
টাকার তরে শরীর বিক্রি—এ কি প্রগতির গান?
নাকি এ তোমার শাশ্বত সেই আভিজাত্যের অবসান?
নিজে রাঁধো আজ, একা থাকো একা, ঘর সে তো অন্ধকার,
বার্ধক্যে কে দিবে তোমারে মমতার অঙ্গীকার?
পরিবারহীন বিষণ্ণ দিন গনিবে যখন একা—
অর্জিত সেই অর্থের স্তূপে পাবে না প্রাণের দেখা।
যাদের তরে ত্যাজিলে গৃহ, সেই প্রভুরা কি রবে পাশে?
নাকি ছিবড়ে করিয়া ছুঁড়ে ফেলে দিবে চরম পরিহাসে?
উত্তরাধিকারী গড়িবার ভার ছিল যে তোমার হাতে,
যোগ্য শাসক রচিতে পারিতে তব কৃষ্টির সাথে।
আদর্শ চরিত্র, বীরত্ব আর সংস্কৃতির ঐ ধনে—
জাতি গড়িবার ব্রত ছিল তব মহৎ আপন মনে।
আজিকার এই স্বার্থের টানে ভুলিলে সে ইতিহাস—
নিজের হাতেই রচিলে তোমার বিনাশের উপবাস।
জেগে ওগো নারী, রণরঙ্গিণী, ভাঙো এই মায়া-জাল,
পুঁজিবাদের দাবার ঘুঁটি হয়ো না আর এই কাল।
নিজের মর্যাদা রক্ষা করিয়া ফেরো আপন আলয়ে,
বীরপ্রসূ হয়ে ওঠো ফের নতুন আদর্শ লয়ে।
অর্থের দাসী নও গো তুমি, তুমি যে জননী-শক্তি—
তব মাধ্যমেই আসুক ধরায় ত্যাগের পরম ভক্তি।
গৃহ থেকেই ইতিহাস জন্ম লভে চিরকাল অম্লান,
জননী রূপেই নারীত্ব পায় শ্রেষ্ঠ সে সম্মান।
কর্পোরেট ওই গোলামি ফেলে চরিত্রে সাজো আজ,
তব আদর্শে গড়ে ওঠো ফের রাষ্ট্র-নির্মাণে রাজ।
পৌরুষের ওই নকল মিছে মুখোশ ফেলো গো ছুঁড়ে—
গৃহের মহিমা প্রচার করো ফের আকাশ-বাতাস জুড়ে।
বোধে জন্ম কর্তৃত্ব
- A Bengali Poetry On Women Empowerment By Avijit Ghosh
জাগো ওগো আদ্যাশক্তি, অমিত-তেজস্বিনী,
তিমির নাশ করো তুমি, চির-রণরঙ্গিনী।
ললাটে তোমার আঁকো দীপ্ত জয়ের টীকা,
অন্তরে জ্বালো শুদ্ধ বোধের অগ্নিশিখা।
মৃন্ময়ী নও, চিন্ময়ী রূপে জাগো মহীয়সী,
ছিন্ন করো শৃঙ্খল, হয়ে তীক্ষ্ণ জ্ঞান-অসি।
ঘরের কোণ ছেড়ে বাহিরে আসো আজ,
ফেলে দাও কুণ্ঠা আর সব মিছে লাজ।
বীরাঙ্গনা সাজে সাজো সমর-অঙ্গন,
শিরায় শিরায় বাজুক জয়ের গর্জন।
আত্মমর্যাদা হোক তোমার হাতের খড়্গ,
নিজ অধিকারে গড়ে তোলো আপন স্বর্গ।
তুমিই শক্তি, তুমিই মুক্তি, তুমি মহাশ্বেতা,
নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ো, তুমিই বিধাতা।
নও গো ভীরু, নও দুর্বল, নও কৃপাপাত্রী,
তুমি অজেয়, তুমি অভয়া, তুমি মুক্তিদাত্রী।
বোধের আলোয় জন্ম নিক অদম্য শাসন,
তোমার চিত্তে পাতা থাকুক নেতৃত্বের আসন।
করুণাময়ী তুমি, যেন স্নিগ্ধা বসুন্ধরা,
অন্যায়ের কাছে কেন থাকবে জড়োসড়ো সারা?
দয়াময়ী মনেও তবে ধরো রুদ্র রূপ,
জাগো অগ্নি হয়ে দহিতে আঁধার-কূপ।
সিংহ-বিক্রমে চলো আপন বুদ্ধিবলে,
সফলতা আসুক তোমার বীরত্বের কৌশলে।
শত লাঞ্ছনা সহেও তুমি আজ অপরাজেয়,
তোমার মহিমা সবার কাছে অতিশয় ধন্য।
নিজের ওপর নিজের শাসন— এই পরম ধর্ম,
সাফল্য দিয়ে প্রমাণ করো তোমার শ্রেষ্ঠ কর্ম।
দয়া-ভিক্ষার কাঙালিনী হয়ে থেকো না অবনত,
জাগো মহাশক্তি হয়ে তুমি স্বকীয়তায় ব্রত।
বিদ্রোহী তানে ভাঙো জীর্ণ কারাগার,
বজ্র-কণ্ঠে ঘোষণা করো তোমার হুঙ্কার।
মহিমার তেজে হও তুমি আজ বীর্যবান,
জাগিয়ে তোলো তোমার ভেতরে সুপ্ত প্রাণ।
তোমার মাঝেই লুকিয়ে আছে শক্তির মূল,
দর্পভরে দাঁড়াও দেখি, টুটুক সকল ভুল।
চিত্রাঙ্গদা রূপে তুমিই শ্রেষ্ঠ রণজয়ী,
মহা-বিপ্লবে জাগো তুমি, জাগো মৃত্যুঞ্জয়ী।
বোধের অসি তীক্ষ্ণ করো, সানিয়া লও প্রখর,
কর্তৃত্ব হোক আপন সত্তায়, হোক চির ভাস্বর।
অধিকার তোমার কারো দয়ায় হবে না লীন,
নিজে হবে নেত্রী, থেকো না আর পরাধীন।
জাগো তবে নারী, জাগো বীরাঙ্গনা, রণরঙ্গিনী,
তুমিই এই ধরিত্রীর রক্ষক ও পালিনী।
বোধে জন্ম কর্তৃত্ব তোমার— গাও বিজয়-গান,
তোমার মাঝেই স্পন্দিত হোক মুক্তি-প্রাণ।
আত্মমর্যাদার জয়গানে কাঁপুক বিশ্বচরাচর,
নেতৃত্বের শিখরে তুমি থাকো চির ভাস্বর।
আলো বহনকারী হাত
- A Bengali Poetry On Women Empowerment By Avijit Ghosh
অন্ধকার চিরে মশাল ধরেছে ওই যে প্রদীপ্ত কর,
সমাজ শুধায়— "এ শক্তি কার? কে ভাঙে মায়ার ঘর?"
যে হাত কেবল অন্ন বিলাত, আজ কেন তাতে বাণ?
তবে কি টুটিবে মিথ্যে শাসনে গড়া এই জীর্ণ প্রাণ?
আলোক-বর্তিকা হস্তে তোমার— এ নয় তো শুধু খেলা,
সহস্র যুগের দাসত্ব-গ্লানি মোছাবার এই বেলা।
অসূর্যম্পশ্যা গণ্ডি টুটিয়া বাহিরে বাড়াও হাত,
অন্যায়ের ওই পাষাণ-বুকে হানুক বজ্রপাত।
কেন রবে নারী জড়সড় হয়ে চিরাচরিত এ ভয়ে?
কেন তিলে তিলে নিজেরে দহিবে পরের বিজয় হয়ে?
আত্মমর্যাদা খড়্গ করিয়া রুখো রে পাপাচার,
তোমার হাতেই রচিত হোক রে আগামীর অধিকার।
যে হাত আদরে দোলনা দোলায় পরম মায়ার ভরে,
সে হাত কেন আজ চাবুক হানে না পিশাচের উপরে?
তুমিই সৃষ্টি, তুমিই স্থিতি, তুমিই সংহারিণী,
যুগ-যুগান্তের তিমির-বিনাশী আলোক-পিণ্ডধারিণী।
নিজের শক্তি নিজেই ভুলের অতলে দিয়েছ বলি,
জাগো মহীয়সী, সত্যের পথে ত্যাজ গো মিছে গলি।
দয়া-ভিক্ষার অঞ্জলি মেলে কতকাল রবে আর?
নেতৃত্বের উচ্চ শিখরে করো আজ অভিসার।
সিংহাসন সে তো তোমারই প্রাপ্য স্বকীয় যোগ্যতায়,
পরাধীনতার চিহ্ন মোছো রে আত্ম-মহিমায়।
বোধের গহনে জন্ম লভেছে যে অদম্য শাসন,
সে শক্তি দিয়া জয় করো আজ নেতৃত্বের আসন।
দিকভ্রান্ত আজ নারী-সমাজ যে মোহের চোরাবালি,
ললাটে কেন গো কলঙ্ক-রেখা, কেন এই চুনকালি?
নিজেরে পণ্য করিয়া কেন গো বিলাচ্ছ আপন দান?
জাগো মহাশ্বেতা, ত্যাজ গো আধুনিক এ অসম্মান।
বীরাঙ্গনা হও আপন সত্তায়, ধরো হে মহিমা-বেশ,
বিজাতীয় মোহে যেন না হারায় তোমার আপন দেশ।
রোষ-বহ্নিতে জ্বালো আজিকে জরা ও জঞ্জাল যত,
তব চরণে দমিত হোক রে পামর ও অবনত।
তুমিই কান্ডারী, তুমিই মহাশ্বেতা, তুমিই কালান্তক,
তব তেজেতে ভস্ম হোক রে জঘন্য প্রবঞ্চক।
নিজের ভাগ্য ললাটে আঁকো হে আপন বুদ্ধিবলে,
সফলতা তব চরণে আসুক সাহসের কৌশলে।
লাঞ্ছনা সব তুচ্ছ করো রে রণরঙ্গিনী সাজে,
বিজয়-বিষাণ উঠুক বাজিয়া তব কর্মের মাঝে।
আলো বহনকারী হাত তোমার ঘুচাবে সকল আঁধার,
তব প্রতাপে টুটিবে আজিকে শোষণের কারাগার।
অধিকার তব কারো দয়ায় লভিব না কোনোদিন,
নিজে হবে ধাতা, নিজে হবে নেত্রী— থেকো না পরাধীন।
জাগো তবে রুদ্রা, জাগো অগ্নিশিখা, জাগো হে মহাপ্রাণা,
তব তেজেতে বিশ্ব-আকাশ হোক আজি আনমনা।
বোধে জন্ম কর্তৃত্ব তব— এ নহে তো কোনো দান,
তব অধিকারে ধ্বনিত হোক নিখিল জয়গান।
আত্মমর্যাদার প্রদীপ্ত আলোয় কাঁপুক বিশ্বচর,
নেতৃত্বের অমর শিখরে থাকো চির ভাস্বর।
ধৈর্যের রাজপথ
- A Bengali Poetry On Women Empowerment By Avijit Ghosh
মাতামহীর আঁচলে ছিল অটল ধৈর্য-শক্তি,
প্রগতির ওই হাটে কেন তাহার অবভুক্তি?
মদিরা-মত্ত নিশীথ-ঘোরে জীবন করিছ শেষ,
স্বাধীনতার নামে এ কি রুচিহীন এই বেশ?
অঙ্গীকারের দীপ নিভায়ে কামনার এই মেলা,
নিজের হাতেই সাঙ্গ করছ জীবন-সাঁঝের খেলা।
অর্ধ-নগ্ন রূপ প্রদর্শনে খুঁজিছ বৃথা মান,
পণ্য হইয়া হারাইলে আজ নিজেরই সম্মান।
শরীরের ওই ভাঁজে কেবল লালসা ভরা মন,
এই কি তবে নারীত্বের আধুনিক আয়োজন?
পুরুষ হইতে গিয়া কেন ত্যাজিলে আপন মূল?
বীরপুরুষ সাজতে গিয়া তুমি করছ চরম ভুল।
অসংযমী রসনা তব, কথায় বিষের ধার,
কথার তোড়ে নিজের মুখে মাখছ কলঙ্ক-ছার।
কোথায় মৌন থাকিতে হয়, জানো না সেই বিচার,
অহেতুক এই তর্কে তোমার ব্যক্তিত্ব ছারখার।
আবেগ মেখে দুর্বলতা বাড়াও প্রতিদিন,
ধৈর্য বিনা নেতৃত্ব আজ গরিমা-হীন ও ক্ষীণ।
সুন্দর রূপ পঙ্ক কেবল, যদি না থাকে চরিত্র,
ললনা-সত্তার গাম্ভীর্য আজ হয়েছে অপবিত্র।
মাতা ও দিদিমার সেই ধৈর্য ত্যাজিলে কিসের মোহে?
নিজের বিনাশ খুঁজছ কেন বিজাতীয় বিদ্রোহে?
রানী হবে? চরিত্র ফেলে নর্দমা-আবর্জনে?
বীরাঙ্গনা কি মানায় সাজে কামাতুর কু-অঙ্গনে?
হাজার বিকল্প মোহ ছড়ায় যৌনতারই জালে,
সেই পঙ্কেই ডুবছে তরী মরণ-অন্তিমকালে।
নিজের ক্ষমতা, দক্ষতা সব গড়ো বুদ্ধিবলে,
ধৈর্যের রাজপথে চলো সাহসের কৌশলে।
চরিত্র হোক রক্ষাকবচ, বুদ্ধি হোক তব অসি,
তবেই নেতৃত্বের সিংহাসনে বসিবে সগৌরবে আসি।
দিকভ্রান্ত এ নারী সমাজ, হারাল মূল পথ,
নিজের হাতেই ভাঙছ আজ বিজয়ী সেই রথ।
পুরুষ হইতে গিয়া খুইয়েছ রাজ-অধিকার,
নারীত্ব মানে ধৈর্য্য ও তেজ— নহে তো ব্যভিচার।
মাতৃ-হৃদয়ের সেই ধৈর্যই হোক পথের দিশারি,
তবেই তো সমাজ ফিরাবে সম্মান, যাবে অন্ধকার হারি।
অতিরিক্ত এই আবেগ-বিলাস করো আজ সংবরণ,
গম্ভীর মুখে মহীয়সী রূপে করো নিজেকে বরণ।
রাজপথ ওই ধৈর্যের পথ, যেথা চলে তেজস্বিনী,
ধরণী তাহার পদতলে আজ রবে গো চির-ঋণী।
রাতের নেশায় মত্ত হওয়া কি প্রগতির উপহার?
নিজেকে চিনে শিকড়ে এবার করো হে অভিসার।
জাগো ওগো রুদ্রা, গ্লানি ত্যাজিয়া জাগো সগৌরবে,
ধৈর্যের রাজপথে চলো আজি সত্যের মহোৎসবে।
চরিত্র ও সাহস হোক তব অমর পরিচয়,
ধৈর্যের শাসনে নেতৃত্বের হোক বিশ্বজয়।
সিংহাসনটি তোমারই প্রাপ্য নিজেরই যোগ্যতায়,
রানী নও তুমি, মহীয়সী হও পরম মহিমায়।
সংযমে গড়া প্রভাব
- A Bengali Poetry On Women Empowerment By Avijit Ghosh
আধুনিকতার মায়াবী বিষে হয়েছিলে পথহারা,
লজ্জা বেচিয়া সেজেছিলে সঙ, হিয়া—ছন্নছাড়া।
পুরুষের সাথে পাল্লা দিতে যে বিকিয়েছ নিজ প্রাণ,
মেকি সুখে আজি ভাসিয়া চলেছ ত্যজিয়া আপন মান।
উগ্র সাজে ও অসংযমে নারীত্বে মেখেছ পঙ্কিল,
সংসার ত্যজি রাজপথে ঘোরা—জীবনটা ছিল পিচ্ছিল।
মদ-নেশাতে চুর হয়ে গেছ, ভুলেছ স্নেহের বুক,
পিতার সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে খুঁজেছ যে মিছে সুখ।
গুরুজন আজি অবহেলিত সেথা, তুচ্ছ যে পরিবার,
আধুনিকতার নামেতে সয়েছ পঙ্কিল এক জোয়ার।
কথায় কথায় বিবাদ রচেছ, মুখে বিষ-দংশন,
মাতা হওয়ার যোগ্যতা নাই, করেছ শুধু ক্রন্দন।
প্রতিযোগিতার মেকি ইঁদুরে হারিয়েছ নিজ রূপ,
পুরুষ সাজিতে গিয়া তুমি নিজে গড়েছ অন্ধকূপ।
গৃহকর্মে আলস্য মেখে মনেতে কুটিল টান,
সংস্কারহীন জীবনের পথে হারিয়েছ নিজ প্রাণ।
এই সে সমাজ, এই সে সময়, তুমি ছিলে এক পণ্য,
আদর্শহীন এই পথ চলা—বিশ্ব হয়েছে ধন্য।
সহসা আজিকে মোহ টুটেছে, মনে পড়ে সব স্মৃতি,
পিতার সেই কঠোর শাসন—জীবনের ধ্রুব-নীতি।
মাতা নাই আজ, তবু কানে বাজে সুমধুর সেই সুর,
করুণা-ধৈর্য-মিষ্টতা মাখা—যাহা ছিল সুপ্রচুর।
গুরু ও সখা, ভাই ও বন্ধু—শিখাল যা চিরদিন,
আবার ফিরিতে হবে সে পথে, শোধিতে প্রেমের ঋণ।
পিতা কহিতেন— "নহ তুমি হীন কোনো নরাধম পুরুষে",
নারীত্বের ওই দিব্য তেজে দহন করো সব কলুষে।
পুরুষ হওয়ার দরকার নাই, তুমি যে আদ্যা-শক্তি,
নারী হওয়ার গুনেই লভিবে নিখিল বিশ্বের ভক্তি।
নিজেরে চিনিলে জানিবে তুমি যে নও গো কভু অবলা,
স্বীয় মহিমায় ভাস্বর হও, ভাঙো কুটিল ছলাকলা।
সামর্থ্যবতী, চরিত্রবতী, সংস্কারে তুমি অনন্যা,
উচ্চ রুচির মনন তোমার, তুমি প্রকৃতির ধন্যা।
মিষ্টভাষিণী, স্থির-চিত্ত, নয়নে প্রেমের জ্যোতি,
শুদ্ধ আঁচলে ঘোচাও তুমি সমাজের সব দুর্গতি।
গৃহকর্মে নিপুণা তুমি, মা হওয়ার শ্রেষ্ঠ মান,
তব পরশে মরুভূমে আজি জাগুক অমৃত গান।
যাহা তুমি আজ পরশ করিবে, ফলিবে খাঁটি সোনা,
আজ, তব হৃদয়ের গহন কোণে নেই কোনো প্রবঞ্চনা।
স্বীয় স্বরূপেরে চিনেছ বলেই তুমি আজ অপরাজেয়,
পুরুষের সাথে রেষারেষি নহে, তুমি যে ধ্রুব-জ্ঞেয়।
তব স্নেহের ছায়ায় জুড়ায় তপ্ত এ দাবানল,
ভবিষ্যৎ গড়িবে তুমিই, তুমিই সৃষ্টির বল।
জাগো হে নারী, জাগো সগৌরবে, ত্যজো বৃথা রেষারেষি,
কোমলতা আর কঠোরতা মাঝে তুমিই তো মহীয়সী।
সংসার তব তপোবন হবে, জগত আজ্ঞাবহ,
নিজেরে জানিলে বিধাতার পরে তুমিই পরম অগ্রহ।
সংযমে গড়া প্রভাব তোমার থাকুক চির অমলিন,
শতাব্দী পরেও তোমারই নামে আসুক সেই সুদিন।
কণ্ঠে মমতা, চরণে দৃঢ়তা
- A Bengali Poetry On Women Empowerment By Avijit Ghosh
জাগো মহাশক্তি, ত্যজ চপলতা, চিত্তের অস্থির বিন্যাস,
লক্ষ্যহীন পথে ভ্রমিয়া ডেকো না নিজেরই সর্বনাশ।
সংকল্প যদি টলমলে হয়, মস্তিষ্ক সদা ফেরে,
জীবনতরণী কূল হারাবে যে ভবসংসার তীরে।
একবার ইহা একবার উহা—মানসিক এক বিকার,
স্থিরমতি বিনা নারীত্বে জাগে তীব্র হাহাকার।
নিজেকে বিলানো পণ্যের মতো—সে তো চরম দীনতা,
পরের চরণে অর্পণ প্রাণ, মহৎ নহে—হীনতা।
স্বেচ্ছাচারী মরীচিকা আনে সমাজের নিগ্রহ,
পবিত্রতা হোক মহীয়সী নারীর আজীবনের ব্রত।
অপ্রাসঙ্গিক বৃথা বাক্যব্যয় আনে না তো কল্যাণ,
মিথ্যার মোহে তিলে তিলে ক্ষয়ে যায় আত্মসম্মান।
তর্ক ও কলহ যেথায় নিত্য, শান্তি সেথায় হারায়,
দারুণ অশান্তি অট্টহাসিতে কেবল অঙ্গন ভরায়।
বৃথা বিতণ্ডা অন্তঃসারশূন্য ছায়ার মতন ম্লান,
ধ্রুব সত্যের ছোঁয়া পায় না তো কভু তাদের প্রাণ।
বিদ্রোহ সাজে তখনই যখন ন্যায়ের পথে বাধা,
অবাধ্যতা তো জীবনকে করে পঙ্কিল আর কাদা।
প্রকৃতি তোমারে দিয়েছে অসীম স্নিগ্ধ কোমল মায়া,
নারী বিনা এ কঠিন ধরায় কোথায় শীতল ছায়া?
কণ্ঠ হোক করুণায় সিক্ত, হৃদয় সিন্ধু গভীর,
অহংকারে হারিও না কভু জ্যোতি সে ধ্রুব সুস্থির।
হিমাদ্রি সম অটল সিদ্ধান্ত, তুষারশুভ্র স্পষ্ট,
দ্বিধাগ্রস্ত মন প্রতিটি পলে জীবনকে করে নষ্ট।
চরণ থাকুক ধরিত্রীর সাথে নিবিড় সংলগ্ন,
স্থির যে নারী, জগত তাহার চরণে রহে মগ্ন।
সেই তো নেত্রী, মহাকালের পটে আঁকে যে আল্পনা,
তারে ঘিরেই তো গড়ে ওঠে যত মহতী কল্পনা।
সংসারে শান্তি ফিরাতে চাই স্থিরচিত্তের প্রতিমা,
অস্থিরমতি বোঝে না কভু আপন সত্তার মহিমা।
সংকল্প বদল অন্যের ইশারায়—সে তো দাসত্ব অতি,
মুক্তির নামে স্বেচ্ছাচারিতা বিনাশে দেবত্ব-দ্যুতি।
গৃহ হতে রণ—সর্বত্র চাই শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণ,
তবেই সার্থক হবে পৃথিবীতে তব এ আয়োজন।
উশৃঙ্খল মদমত্ততা আজ সমাজের বড় ক্ষত,
শ্লীলতা হারানো বিনাশী রণ নহে কভু শাশ্বত।
তপ্ত শলাকা সম বিঁধুক এ বাণী পাপিষ্ঠের বুকে,
বিপথগামীর টনক নড়ুক, অনল জ্বলুক মুখে।
সহস্র লাঞ্ছনা আসুক তবুও সত্যে নাহি ডরি,
জাগুক মানুষ সত্যের মশালে তিমির বিভাবরী।
কণ্ঠে মমতা, চরণে থাকুক বজ্র-দৃঢ়তা অতি,
নেতৃত্ব আসুক চরিত্রে—ঘুচুক চপল মতি।
নারী যদি হয় স্থিরসংকল্প, ফিরবে সুখের দিন,
ভবিষ্যৎ রবে ঐতিহ্যের কাছে চির ঋণী ও লীন।
অগ্নিবীজ - যুব জাগরণ, সাহস ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি
ভোগে ডুবে থাকা প্রজন্ম
- A Bengali Poetry On Youth Empowerment By Avijit Ghosh
ঋণের শিকল চরণে জড়ায়ে পন্যের দাস হলে,
পকেট রিক্ত, দম্ভ তো দেখি ব্র্যান্ডের কোলাহলে।
কিস্তির চাপে মেরুদণ্ডটা আজ নুয়ে গেছে ভাই,
উচ্ছিষ্ট লোভে বিকাইলে দেহ, বীর্যের তেজ নাই।
স্বর্ণিম এই যৌবনখানি পিশে দিলে কার পায়ে?
দাসত্ব কেন ভূষণ করিয়া বহিছ আপন গায়ে?
নারী চাহে আজ অন্ধ মুক্তি, মাতৃত্ব বিষ লাগে,
মমতা ত্যাজিয়া আধুনিকতার মিথ্যা নেশা জাগে।
উজ্জ্বল পথে পদের লোভেতে বিকায় আত্মবোধ,
মদের পেয়ালায় উত্তাল রাতে কি আছে অবরোধ?
ঘর যে গড়ে সে আজ বাহিরে অর্থের মোহে সারা,
পরকীয়া আর লালসার স্রোতে নীতিহীন দিশাহারা।
পুরুষ ভাবে— কেন তবে মিছে পরিব বিয়ের হার?
শান্তি তো নাই গৃহকোণে আজ, কলহ যে নির্বার।
আধুনিকা বধূ অন্যের ঘরে যাপিলে নিশি রাত,
বিত্ত হারাবার ভয়েতে পুরুষ করে যে অশ্রুপাত।
পরিচারকের রন্ধন দিয়ে ঘুচাবে পেটের দায়,
লয়ালিটি আজ বিরাণ মরু— নিষ্ঠা কোথায় যায়?
বঞ্চনা আজি বিনোদ-তামাশায়, নিয়তির পরিহাস,
ভর্তুকি আর দানে কেনা হয় শ্রমিকের দীর্ঘশ্বাস।
ভোটের থালায় ছিটালে নগদ, কেনা হয়ে যায় মাথা,
যুব-সমাজ ঐ নেশায় মজিয়া হারালো শৌর্যের গাথা।
ভুল বিচারেতে পচেছে সমাজ, রুদ্ধ যে আজ কণ্ঠ,
ন্যায়বিচার যে হাসে অট্টহাসি— বিচারক সে তো লণ্ঠ!
ব্র্যান্ডের ফাঁদে বিভ্রান্ত দল, বর্তমানই শেষ কথা,
অতীত ও ভবিষ্যৎ ভাবিতে জাগে না চিত্তে ব্যথা।
প্রতিষ্ঠার তরে প্রস্তুতির চাপে যৌবন করিয়াছ ছাই,
বাঁচিবার নামে বর্তমানটারে সঁপিলে অভাবের জাঁই।
ভোগের এই যে পঙ্কিল তলে ডুবিয়াছে আজ দেশ,
কর্তব্যহীন এই মদমত্ততা আনিবে কি শুভ বেশ?
স্মরণ করো ওই কাল-মহাকালের অমোঘ কঠিন বাণী,
কঠিন মুহূর্তই গড়ে তোলে যে বীরের অমর কাহিনী।
দৃঢ় চরিত্র আনিবে ধরায় চির-কল্যাণময় বেলা,
সুসময় এলে মানব-প্রকৃতি মাতিবে সুখের খেলা।
আবার আসিবে অলস বিলাস ও নরম মনের মায়া,
যাহার মোহে ঘনীভূত হবে ঘোর দুর্যোগের ছায়া।
ভালো কিছু চাও? তবে দায়িত্ব লহ নিজ স্কন্ধে আজ,
ত্যাগের অনলে পুড়িয়া করো হে তিলক-শোভিত কাজ।
ভোগের আড়ালে ধ্বংস হইতেছে আগামীর শুভ পথ,
জাগো হে নবীন, সামলাও ওই উন্মত্ত কাল-রথ।
ভবিষ্যৎ তরে গড়ো হে নিজেকে ত্যাগের অগ্নি-স্নানে,
নতুবা ডুবিবে বিস্মৃতি-মাঝে বিকৃত কামের টানে।
মাতা ও পিতার চরণে আজিকে সঁপিয়া দাও হে প্রাণ,
সংসার হোক শৌর্য-বীজ ও বীর্যের জয়গান।
যৌবন নহে লঘু কামনার চপল ক্রীড়া-ভূমি,
আদর্শের সেই উচ্চ শিখরে আরোহণ করো তুমি।
মুক্ত করো এ হীন দাসত্ব, ভাঙো এ মোহময় পাশ,
তবেই জাগিবে চির-বিদ্রোহী ও কালজয়ী ইতিহাস।
ক্ষুধা যেখানে লক্ষ্যকে খেয়ে ফেলে
- A Bengali Poetry On Youth Empowerment By Avijit Ghosh
লক্ষ বেকার লড়াইয়ে নামে, গুটিকয় জোটে ঠাঁই,
সতেরো হইতে পঁয়ত্রিশ পার— বাঁচার যে পথ নাই।
আবেদন-ফি’র টাকায় কেবল শাসকের ঝুলি ভরে,
মেধা আজ কাঁদে রাজপথ-ধূলে বঞ্চনা সহ্য করে।
সাত সমুদ্র পার হয়ে ছোটা— জোটে না তো এক রুটি,
প্রশ্ন ফাঁসের বাজারেতে আজ ভাঙিল আশার কুঠি।
বয়স চুইয়া নামে যে তিমিরে, চাকরি সে নাগাল ছাড়া,
বিশ্বাসের ওই মিনার ভাঙিয়া বেকার যে দিশাহারা।
পেটের দায়েতে ভিন রাজ্যেতে রক্ত বেচিয়া ঘাম,
দাসত্বের এই হীন বাজারে কিবা যৌবনের দাম?
সমাজ-সেবা ও দেশ উদ্ধার— ওসব বিলাস কথা,
জঠরের জ্বালা গিলিছে লক্ষ্য, বাড়াইছে শুধু ব্যথা।
পুঁজিপতি পায় এক টাকায় শত একর ভূমিদান,
পাট্টার জমি কেড়ে নেয় আজ— দরিদ্রের সম্মান।
শতাব্দীর ওই প্রমাণ খুঁজিছ? দেখাও মাত্র ৫০ সাল,
নিজেদের বেলায় নাইকো নিয়ম— আমাদের মহাকাল।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লুটাও লাঠির পেশির জোরে,
সংবিধান যে বোবা হয়ে কাঁদে শাসকের অন্তঃপুরে।
এমপি-মন্ত্রী প্রাসাদ ঘিরিয়া বিলাসের আয়োজন,
গাড়ির তেল ও আহার তাদের— সবই সরকারি ধন।
পাঁচ টাকা দামে রাজকীয় ভোজ বিধানসভা-ঘরে,
ফাইভ-স্টার থালা সাবার করিয়া আমোদে মত্ত নরে।
পেনশনে ভরা রাজকীয় সুখ, নাইকো চিন্তার রেখা,
আমাদের তরে ক্ষুধার অন্ন— পান্তা ভাতেতে ঢাকা।
যোগ্য যুবকে মামলা ঠেকালে চাকরি তাহার নাই,
হাজার মামলা কাঁধে নিয়ে নেতা চেয়ার দখল পায়।
ভোটের পরে সে আইনের রাজা, ধুয়ে যায় সব পাপ,
আমাদের তরে জেল-ফাঁস শুধু— নেতার তরে কি মাপ?
অত্যাধিক এই সুযোগ-সুবিধা ত্যাগের তেজ যে কাড়ে,
বীরত্ব বেচে যুবক আজিকে জেলের শৃঙ্খল-ধারে।
উপরে বসিয়া হাত ধরাধরি, দুই টাকায় খায় ভাত,
গল্পে মজিয়া হাসাহাসি করে, পাতে সখ্যতার হাত।
মঞ্চে দাঁড়ায়ে লড়াকু সাজিয়া অভিনয়ে তারা সজাগ,
আড়ালে বন্ধু— আমরাই মরি করিয়া রক্ত-বিভাগ।
তাদের লাগিয়া পরিবার টুটে, করি মোরা হানাহানি,
অভিনেতা ওই নেতাদের তরে ঝরে জনকের পানি।
নিজের পরিবার বাঁচাতে কেবল যুবক সহিছে সব,
দেশ ও সমাজ ভাবা বিলাসিতা— রুদ্ধ যে কলরব।
অযোগ্য নেতা ত্রাস ছড়ায়ে বাড়ায় অন্ধকার,
কারাগারের ওই লৌহকপাটে ভয় করো না আর।
পরিবর্তন যদি চাহো রে বন্ধু, ত্যাগ করো এই ডর,
হাজার জনের দোহাই ছাড়িয়া নিজের পাল্টাও স্বর।
জাগো রে যুবক, জাগো রে রুদ্র, মোহ করো আজ চুর,
বুকের মাঝেই বাজিবে এবার বিপ্লবের অগ্নি-সুর।
একটি মানুষ যদি সোজা দাঁড়ায় শোষকের পথ রুখে,
তবেই আসিবে নতুন জনম— জয়গান হবে মুখে।
যদি তুমি আজ পাল্টাও ভাই, তবেই জাগিবে সমাজ,
নব চেতনায় অগ্নি-বীণায় সুর তোলো গো আজ।
চোখ খোলা, চেতনা অচেতন
- A Bengali Poetry On Youth Empowerment By Avijit Ghosh
বীর পুরুষের রক্ত ধমনিতে? ওরে ওরে কাপুরুষ!
আলেকজান্ডার, পুরু বা প্রতাপ— সব কি আজ ফানুস?
মহারানা প্রতাপ, শিবাজী, শম্ভু— তিনগুণ ভারী অস্ত্র,
যৌবনেই যারা শত্রু দলিয়া কাড়িল তাদের বস্ত্র!
বিনয়-বাদল-দীনেশ কিম্বা মৌর্য চন্দ্রগুপ্ত,
তাদের বিক্রমে বিশ্ব কাঁপিল— তুমি কেন আজ সুপ্ত?
ক্ষুদিরাম, ভগৎ ফাঁসির মঞ্চে হাসিল যে অকাতর,
তুমি ভীরু আজি চাদর মুড়িলে করিয়া মরণ-ডর!
'ভালো মানুষ'— এই তো তোমার ভন্ডামির এক বর্ম,
অসমর্থতা লুকাতে কি তবে ত্যাজিলে বীর-ধর্ম?
অধর্ম সাথে আপোষ করিয়া সাজিয়াছ 'মডার্ন',
মেরুদণ্ডহীন ওই দেহখানি— সে যে দাসত্বের হর্ন!
অন্যায় দেখেও চোখ বুজে থাকো, বলো— 'আমি তো একা',
বীর্যহীন ঐ ললাটে তোমার কলঙ্ক শুধু লেখা।
নিজে বেঁচে আছো? সে তো বাঁচা নয়— শবের মতন থাকা,
মহামায়ার ঐ রণ-চণ্ডীর রূপ কি কল্পনা আঁকা?
'সমস্যা আমার নয় তো বন্ধু'— বলিয়া ঘুরালে শির,
স্বার্থের এই পঙ্কিল ঘোরে খুঁজিছ নিজের নীড়?
জেনেশুনেও আজ জানতে চাও না শোষকের ঐ চাল,
মনে রেখো ওরে— তোমার দুয়ারেও আসিবে মহাকাল!
আজ তুমি যার বিপদে বিমুখ, রহিলে নিশ্চুপ ঘরে,
কাল তোমারও আর্তনাদে কি কেউ ফিরেও চাউনি করে?
মহাভারতের মহাতাপ যদি হয় কেবলই কল্পনা,
কেন তবে ওই শৌর্য-গাথা— কেন মিথ্যা জল্পনা?
বিক্রমাদিত্য, বাঘা যতীন বা ক্ষুদিরামের ঐ সংকল্প,
তোমার বিলাসী মগজে আজিকে শুধুই কি তবে গল্প?
অল্প বয়সে যারা চড়িল যে মরণ-অগ্নি-রথে,
তুমি কেন তবে পা গুটিয়ে আছো ভোগের কুটিল পথে?
নারী শক্তি কি কেবলই বাক্য? দুর্গা কি পুঁথির ঘাস?
নিজের ভীরুতা জাস্টিফাই করে কাটো কি নিজেরই ফাঁস?
আপডেটেড তুমি? না রে— ওরে তুই তিলে তিলে হীন-নীক,
ইতিহাস তোরে ছুঁড়িয়া ফেলিবে বলিবে তোরে ধিক্!
চেতনা তোমার অচেতন আজ— চোখ খোলা তবু অন্ধ,
নিজের ভিতরে নিজেই করেছ মহৎ প্রাণটি বন্ধ।
অধর্ম আর শোষণের সাথে সন্ধি করেছ যবে,
পূর্বপুরুষের তেজস্বী শোণিত কি আর তোমার রবে?
একাকী লড়িতে বীর্য চাই রে, চাই সে রুদ্র প্রাণ,
পিছুটান আর পরিবার খুঁজি— গাও কি ভয়ের গান?
তুমি জাগিলেই ইতিহাস ফেরে, জাগে মহাকালী রূপ,
নতুবা ডুবিবে বিস্মৃতি-তলে অন্ধকার এই কূপ।
জাগো হে যুবক, দর্প ঘুচাও, ত্যাজো এই ছদ্ম-বেশ,
বিলাসী তন্দ্রা কাটিলে তবেই জাগিবে নিজের দেশ।
নিজেরই মধ্যে জ্বালাও আজিকে সত্যের অগ্নি-শিখা,
তোমার হুঙ্কারে চুরমার হবে পরাধীনতার টিকা।
আমি নই— ওরে এই কবিতাটি ভাগ্যের জোরে তোর,
যদি জাগে বোধ— তবেই আসিবে আগামীর সার্থক ভোর।
শৌর্যহীন এই জীবন তো কেবল পশুরই অধম জান,
জাগাও অন্তরে রণ-চণ্ডীরে— করো মহৎ ব্রত গান!
ক্ষণিক উত্তেজনায় দীর্ঘ ক্ষতি
- A Bengali Poetry On Youth Empowerment By Avijit Ghosh
মুহূর্তের ঐ উগ্র তিয়াশা, পশুর মতন টান,
উত্তেজনায় নারী ও পুরুষ— হারালো হিতজ্ঞান।
নারী দেখা দিলেই প্রেয়সী সাজাও, কামেতে হইয়া অন্ধ,
বিসর্জন দিলে পুরুষার্থ আর চেতনার শুভ গন্ধ।
প্রবঞ্চনায় গল্প সাজাও, উপহারে ভরাও ঝুলি,
ক্ষণিক সুখেতে মজিলে যুবক— দিলে কি সম্মান বলি?
সতেরো বছরে সতীত্ব যায়, আঠারোয় মেলে 'মুক্তি',
হোটেল-বিলাসে দেহদান আজি— আধুনিকতার যুক্তি!
বিজ্ঞান বলে তনু জাগে যবে পনেরো বছর পার,
কুড়ি অবধি তবে কেন রবে কৃত্রিম অন্ধকার?
শুদ্ধ প্রাণের আদি বীজগুলি নষ্ট করিলে বিষে,
মদ ও ধোঁয়ার জরাগ্রস্ত এ যৌবন মেশে কিসে?
পর-পুরুষের শয্যা-সাথিনী, গোপন শরীর-খেলা,
শুদ্ধতা ত্যাজি’ পণ্য হইয়া কাটিছে অন্ধ বেলা।
যৌন চাহিদাই শ্রেষ্ঠ আজিকে? লয়ালিটি তবে কার?
হাজার পুরুষের নগ্ন পরশে— রাষ্ট্র-নির্মাণ ভার?
পঁচিশ-ত্রিশে বিবাহ করিয়া রচিছ বিষম ফাঁদ,
মরীচিকার ঐ রূপের পিছনে— কলঙ্কিত তব চাঁদ।
পুরুষ ভুলেছে বীরত্ব আজ, ভুলেছে মহৎ তেজ,
যৌন নেশায় মজিয়া আজ যে হারায় শ্রেষ্ঠ রেশ।
মলমূত্রের দ্বারেতে খুঁজিছ চরম স্বর্গ-সুখ,
ভবিষ্যতের চিতা জ্বেলে কেন এ ম্লান মলিন মুখ?
বিবাহ মানে কি গঞ্জনা শুধু? পরিবার মানে ভার?
স্বার্থের তরে নিজেকে বিলাই’ আনিছ অন্ধকার।
সকলকে আজ খুশি রাখিতেই নিজেরে নিঃস্ব করা,
তাৎক্ষণিক ঐ সুখের লোভেতে রিক্ত জীবন-ধরা।
জীবন কাটানো জীবন তো নয়— জীবনকে আগে জানো,
অস্তিত্বের ঐ গহন তলে বীর্য-বীরতা আনো।
মহৎ লক্ষ্যের উচ্চ আদর্শে হও গো সমর্পিত,
নতুবা ডুবিবে বিস্মৃতি-তলে অধর্মে তর্পিত।
দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধি যে ভাই— অত্যন্ত শক্তিশালী,
ক্ষণিক সুখেতে মজিলে আসিবে জরা আর শুধু গালি।
যৌগিক ফলের প্রভাব আজিকে জগত জুড়িয়া রয়,
লক্ষ্যহীন ওই শূন্য হৃদয়ে শেষ হয় জয়োদয়।
অকিঞ্চিৎকর বিষয়ে মজিয়া বীর্যের জাগে লাজ,
মহৎ উদ্দেশ্যের তরে হিয়া করো গো কর্ম-সাজ।
যাহার তরে এ বিশ্বাসের বোধ— সেথায় হও গো স্থির,
আগামীর তরে গড়ো নিজেকে মহৎ কর্ম-বীর।
বৃহত্তর এক রূপের নেশায় সংকল্প করো সার,
তুচ্ছ কামের জোয়ারে তরি কি টারিবে তোমার পার?
পুরুষার্থের ঐ উচ্চ শিখরে আরোহণ করো আজ,
তবেই ঘুচিবে গ্লানি ও লজ্জা— আসিবে বীরের সাজ।
উত্তেজনা সে তো মুহূর্তেরই, পতন যে তার ঘোর,
দীর্ঘ ক্ষতির আঁধার নাশিয়া আনো ওই সত্যের ভোর।
নিজেরে জানো , নিজেকে চেনো— এই তো আসল পথ,
সত্যানুরাগে চালিত করো আগামীর কাল-রথ।
যৌবন হোক ত্যাগের অনল, জীবনের জয়গান,
মোহের মুক্তি লভিলে তবেই সার্থক হবে প্রাণ।
অগ্নিমন্ত্র
- A Bengali Poetry On Youth Empowerment By Avijit Ghosh
দৃষ্টি যখন মরীচিকা-গামী হারায় আপন তেজ,
শক্তি তখন চূর্ণ হইয়া রচে পরাজয়-বেশ!
কামনা-অনলে যৌবন-ঘৃত করিয়াছো বৃথা দান,
রূপের মোহে কলঙ্কিত আজ পূর্বজদের মান!
বিলাস-শয্যায় লীন হয়ে রন ভোগের পঙ্কে ডুবে,
নয়নের মণি হারাল আজিকে মায়া-মরীচিকা লোভে!
সুরার পাত্রে বিকিয়ে দিয়েছেন আপন শ্রেষ্ঠ প্রাণ,
বিলাস-ব্যসনে মত্ত হইয়া গাহেন মিথ্যে গান!
মদিরা-মত্ত নয়ন তোমার, চিত্ত যে অস্থির,
ভবিষ্যতের সমাধি গড়িয়া কেন হতে হবে স্থির?
অসৎ পানে পা বাড়ালেই ঘটে যে সর্বনাশ,
এই কি তবে বীর্যবানের অন্তিম পূর্বাভাস?
মুঠোফোনের ঐ যান্ত্রিক মায়া— আধুনিক কারাবাস,
আঙুলের ছোঁয়ায় ঘটিয়েছো আজ স্বকীয় সর্বনাশ!
বিনোদন-মদে মত্ত হইয়া ভুলেছো আত্মবল,
খেলার নেশায় মজিয়া হারালো বীর্যের দাবানল!
যৌবন আজি রোমন্থন করে যন্ত্রের রঙিন মায়া,
ভবিষ্যতের কঙ্কাল হাসে, লুপ্ত হয়েছে ছায়া!
‘শুভদিন মোর আসবেই ফের’— অলস মনের আশা,
ক্লীবের জঠরে জন্ম নিয়েছে বিষাক্ত কুয়াশা!
অপেক্ষা শুধু অক্ষমেরই, বীর্যের অপমান,
কর্মবিমুখ ভাগ্যের দাসে কে দেয় সম্মান?
আয়ুক্ষয় হয় প্রতীক্ষাতে, জং ধরে গেছে হাতে,
শ্মশান-শয্যায় মজিয়া রয়েছেন কাল-বৈশাখী রাতে!
‘যা হয় ভালোই’— এ যে ক্লীবত্বের চরম পরিহাস,
অন্যায়ে সয়ে পুণ্যের ভান— ধর্মের সর্বনাশ!
পাপের গর্ভে মঙ্গল খোঁজা— চরম ভণ্ডামি এ যে,
অক্ষমতার ললাট-তিলক পরেছো বীর সেজে!
বিদ্রোহহীন এই সন্তোষ— আত্মহত্যার নাম,
মিথ্যা শান্তিতে বিকিয়ে দিয়েছেন পৌরুষেরই দাম!
ঝুঁকি লভিতে বুক কাঁপে যার— সে তো নয় বীরের প্রাণ,
সাহস বুকে লভিয়া চলো, তবেই পাবে সম্মান!
ঈশ্বরের ঐ ইচ্ছার নামে আলস্য দিও না ঠাঁই,
উদ্যম যার হৃদয়ে জাগে, জয় যে কেবল তারই!
চেষ্টা বিনা বিধাতা কভু বিজয় নাহি দেয়,
জাগিয়া ওঠো হে তরুণ প্রাণ, জয় করো নির্ভয়ে!
দৃষ্টি যাহারা হারিয়েছে আজ গোলকধাঁধার মোহে...
শক্তি তাদের লুপ্ত হয়েছে আলস্যের অবসাদে!
বিলাস-ব্যসন, শৌখিন সাজে সময় দিও না আর,
যৌবন নামে মৃতদেহ নয়, হও দেশের অহংকার!
অগ্নি যাহার নয়নে জ্বলে, সে তো নয় আবর্জনা,
নিজের হাতেই দূর করো আজ সকল বিড়ম্বনা!
জাগো হে তবে সুপ্ত বীর্য, ত্যাগো হে রঙিন মোহ,
রক্ত-কণিকায় রণ-তুর্য বাজুক— আনুক মহাবিদ্রোহ!
দৃষ্টি ফেরাও ধ্রুবতারকায় সত্যের অভিমুখে,
সাহসের তূণে শর সাজাও আজি বিজয়ের মহোসুখে!
শক্তির উৎস নিজেরই মাঝে, জাগাও সুপ্ত বল,
বিলাসী জীবন ভস্ম করিয়া জ্বালাও ত্যাগের অনল!
বিলাসের ভেতরে শূন্যতা
- A Bengali Poetry On Youth Empowerment By Avijit Ghosh
মুঠোফোনে খোঁজো মায়াবী রূপসী, কামাতুর আদিম খেলা,
হস্তমৈথুন-পঙ্কে ডুবিয়া কাটাও যৌবন বেলা!
বাস্তবে বন্ধু নাহিক তোমার, একা ঘরে হাহাকার,
বিলাসের মোহে তিলে তিলে বাড়ে মনেরই অন্ধকার।
পিতামাতা পায় অবজ্ঞা চরম, ঈশ্বরে নেই মতি,
কাল কি হইবে ভাবো না আজিকে— ডাকিছো আপন ক্ষতি!
কর্মকে ভাবো তুচ্ছ অতিশয়, কুঁকড়ে আছ যে কোণে,
দুর্বল দেহ, জরাজীর্ণ মন, বিষাদ জমেছে মনে।
বিড়ালের মতো ইঁদুরের খোঁজে জীবনের অপচয়,
কাপুরুষতার এই জয়গানে আসে দুর্দিন-ভয়।
সেই দুর্দিন বীর গড়ে তোলে, সুদিন বিলায় বিষ,
বিলাসের শেষে শূন্যতা শুধু— নিয়তির অহর্নিশ!
থামাতে হইবে এই আবর্তন, হে নবীন প্রাণ-শিখা,
সহজ জীবনে কাপুরুষ হলে লুপ্ত হবেই লিখা।
উন্নত হও, দুর্দম হও, উদ্যমে করো কাজ,
কঠোর শ্রমে নিজেকে মজাও, ঘুচাও সকল লাজ।
কাম-ক্রোধ আর লোভ-মোহ-মদ-মাৎসর্য করি নাশ,
আর্থিক তেজে গড়ো ভবিষ্যৎ, টুটুক হীনতা-পাশ!
ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ— বুঝিয়া লহো সবি,
পুরুষার্থের তরে হাসিমুখে প্রাণ দাও মহাকবি।
সত্ত্ব-রজ-তম ত্রিগুণ চিনিয়া সময়ের করো চাল,
অতীতের পাঠে বর্তমানে বাঁচো, জয় করো মহাকাল।
পঞ্চতত্ত্বের এই আধারেতে নিজেরে চিনিয়া লও,
ষড়রিপু নাশি দুর্জয় বেগে অজেয় অমর হও!
সপ্ত চক্রে জাগাও শক্তি, সহস্রারে হোক জয়,
অষ্ট সিদ্ধি করতলগত, ঘুচুক মৃত্যুভয়।
নবগ্রহ তব আজ্ঞাবহ হোক, কর্মে জাগাও প্রাণ,
দশ অবতারের তেজ নিয়ে আজি করো সত্যের গান।
তুমিই সব— তুমিই অনন্য— তুমিই যে মহা-সত্ত্বা,
বিলাসের ফাঁকি চূর্ণ করিয়া লহো বীরের মহত্ত্বা!
তুমিই তখন ব্রাহ্মণ, যখন জানিবে ব্রহ্ম জ্ঞান—
ক্ষত্রিয় হয়ে রক্ষিবে সমাজ, দানিবে নিজ প্রাণ।
তোমার আলয়, তোমার পাড়া— তুমিই যে তার রক্ষক,
বীর্যের তেজে বিনাশ করিও শতসহস্র হীন ভক্ষক।
বৈশ্য সাজিয়া লক্ষ্মীরে আনো, সম্পদ করো জয়,
ধনহীন জাতি মরে তিলে তিলে, পায় সে কেবল ভয়!
শূদ্র হইয়া করো গো সেবা— জনকল্যাণ-ব্রতে,
মানুষের তরে নিজেকে সপিও এই মহৎ পথে।
চতুর্বর্ণের তেজরাজি যেন তোমার মাঝেই ফুটে,
বিলাসের এই শূন্য মোহ যেন নিমেষে আজি টুটে।
তুচ্ছ আনন্দ ত্যাগ করিয়া ধরো অনন্তের হাত,
তোমারই হাতে শুরু হোক আজি আগামীর সুপ্রভাত!
বিলাসের ঘরে শূন্য খাঁচায় থেকো না পাখির মতো,
আগামীকে জয় করিতে করো কঠোর তপো-যত।
তীব্র কঠোর পরিশ্রম হোক জীবনের ছন্দ গান,
নিজেরে হারানো মুক্তি খুঁজো না— হও মহাবলীয়ান।
শুন্যতা হোক পূর্ণ আজকে তোমার কর্মের তেজে,
জাগো হে তরুণ— আগামীর ঐ রণ-দামামা বাজে!
উত্তেজনার খোঁজে
- A Bengali Poetry On Youth Empowerment By Avijit Ghosh
হে নবীন বীর, এ কোন তিমিরে মজিলে আত্মনাশে?
পরম সত্য তুচ্ছ করিয়া কেন মরো মিছে ত্রাসে?
ক্ষণিক নেশার পঙ্কিল স্রোতে যৌবন তরী বায়,
রক্ত-তিলক মুছিয়া আপন— এ কোন নরক গায়?
বীর্য হারায়ে ক্লীব সেজে আছো ছায়ার মায়াজালে,
ধিক্ রে তোমারে! কলঙ্ক আজ মাখিলে আপন ভালে?
ধ্যান-যোগ ত্যজি লালসা-কীট কেন কুরে খায় প্রাণ?
মাতা ও ভগিনী নারী-দেহে কেন খুঁজো কামনার দান?
বৌদি-কাকীর আঁচল ধরিয়া এ কেমন লালসা তব?
পৌরুষ তব চূর্ণ করিয়া এ কোন বিনাশ নব?
ভিতরে বাহিরে বীর্য শুকায়ে হয়েছো পশুর সম,
প্রশ্ন করো রে— এ পঙ্কিলতা কভু কি হয় পরম?
মাঠের ধূলি ও শীতল সলিল আজ কি শুধুই স্মৃতি?
পরিবার হীন যান্ত্রিক কারায় এ কোন জীবন-রীতি?
সোশ্যাল মিডিয়া মায়াজাল বুনে শুষিছে তোমার তেজ,
অমানুষিক এ আচরণে কেন জীর্ণ অবসাদ-রেশ?
বাস্তবে বন্ধু নাহি কো তোমার, আত্মবিশ্বাস হীন,
হে ক্লীব যুবক, নিজেরই কাছে কেন হলে এতো ক্ষীণ?
অল্প আঘাতেই কেন ক্রোধে আজ হিতাহিত জ্ঞান হারো?
ক্ষুদ্র স্বার্থে হিংসার বিষে সমাজকে কেন মারো?
বড় বড় স্বপ্ন নয়নে তোমার, অথচ কর্মে ফাঁকি,
অলস তনুতে আলস্য পুরে কেন মেলে আছো আঁখি?
অতিরিক্ত আশা দুশ্চিন্তা বিষে জপিছো মরণ-নাম,
জাগো রে যুবক, অলস জঠরে খুঁজো না আরাম-ধাম।
অনুশাসন নাই, সংযম নাই, যৌবন শুধু ক্ষয়,
রচনার্থক শক্তি হারায়ে অন্তরে শুধু ভয়।
হস্তমৈথুন-কূপেতে ডুবিয়া নিভাইলে দিব্যজ্যোতি,
ভবিষ্যতের কপাট রুধিয়া আনিলে কি দুর্গতি!
উত্তেজনা কি পরম তৃপ্তি? প্রশ্ন করো রে নিজে,
আজিকে তোমার বীরত্ব-গাথা পঙ্কিল রসে ভিজে।
কিন্তু আর না! রুখিয়া দাঁড়াও, শোনো মহাকাল-ডাক,
ভস্ম হইতে জাগো রে যুবক, অন্ধকার দূরে থাক।
অপার শক্তি বক্ষে তোমার— কেন তুমি এতো দীন?
সময়ের মূল্য বুঝিয়া লও রে, হও না আত্মহীন।
ফিরে এসো সেই জীবনের স্রোতে, ফিরে এসো বীর বেশে,
মুক্ত করো এ সমাজ-শরীরে জমে থাকা বিষ-রেশে।
ব্যায়াম-বীর্যে পেশী হোক লোহা, হৃদয়ে আসুক বল,
বাস্তব সাথী সাথে লয়ে চলো— করো না টলমল।
সংযম হোক ঢাল ও তলোয়ার, চরিত্র হোক সুধী,
মানুষের মতো মানুষ হও রে— নাশ করো যত খুঁধি।
সুখাদ্য আর সুচিন্তা লয়ে গড়ো রে আপন তনু,
অজেয় তেজে হাতে তুলে নাও আজি সে বিজয় ধনু।
শত বর্ষের নিস্তব্ধতা চিরে এই কাব্য গাবে,
ভবিষ্যতের তরুণ সমাজ এ গানেই প্রাণ পাবে।
অতীত ও বর্তমান মিলিবে ন্যায়ের তীক্ষ্ণ স্বরে,
বিদ্রোহী এই প্রশ্ন জাগুক পাষাণ-হৃদয় ঘরে।
উত্তেজনা নয়, আনন্দের খোঁজে অমৃতের যাত্রী হও,
অমর ললাটে সত্যের জয়-তিলক আঁকিয়া লও।
শরীর বাঁচে, উদ্দেশ্য মরে
- A Bengali Poetry On Youth Empowerment By Avijit Ghosh
ভোগের নেশায় অন্ধ চোখ,
মনে জাগে বিষাদ-শোক।
লক্ষ্য হারানো জীবন আজ,
বয়ে চলে এক কলঙ্ক-লাজ।
দেহের সুখে মজেছে মন,
ভুলেছ কেন এই জীবন?
মিথ্যে সম্মানে সাজাও ডালি,
ভিতরে তোমার শূন্য থালি।
পরের মুখে নিজের জয়,
এ বড় বিষম পরাজয়।
হাসির আড়ালে গভীর ক্ষত,
জীবন কি শুধু খাওয়ার ব্রত?
টাকার লোভে বন্দি প্রাণ,
হারিয়েছ আজ আত্মসম্মান।
ঋণের জালে জড়িয়ে পা,
ক্ষয় হয়ে গেল সোনার গা।
আজকের সুখে পাতলে ফাঁদ,
হারালো আগামীর পূর্ণিমা চাঁদ।
দেখানোর নেশায় অন্ধ সাজ,
করছ কেবলই অবুঝ কাজ।
বিবেক তোমার ঘুমিয়ে রয়,
ভিতরে তোমার ভীষণ ক্ষয়।
সস্তা হাততালি দিও না মন,
হারিয়ো না নিজের শ্রেষ্ঠ ধন।
নীচ নেশাতে মাথা নত,
বীর হয়ে তুমি রবে কি মৃত?
পাগল হয়েছ সুখের টানে,
অস্তিত্ব আজ ধ্বংস পানে।
জড়তা কাটিয়ে জাগো রে আজ,
ফেলে দাও সব ভীরু সাজ।
মুখোশ খুলে তাকাও পিছে,
জগত মায়ায় সব যে মিছে।
নিজের ভিতর শক্তি আনো,
আপন মহিমা নিজে জানো।
কোনো কাজেই নাইকো ভয়,
তবেই হবে বিশ্ব জয়।
মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে ফেলো,
ভবিষ্যতের প্রদীপ জ্বালো।
রোদনের দিন হয়েছে শেষ,
গড়তে হবে নতুন দেশ।
বীরত্ব হোক মনের বল,
এগিয়ে চলো রে সুনির্মল।
দৃঢ় মনেতে বাঁধো বুক,
দেখবে নতুন আশার মুখ।
উদ্দেশ্যহীন শরীর মিছে,
পড়ে থেকো না সবার পিছে।
শব্দে জ্বলুক আগুনের রেশ,
জেগে ওঠো আজ হে যুব দেশ।
ইচ্ছার দাসত্ব
- A Bengali Poetry On Youth Empowerment By Avijit Ghosh
মন তো এক অবুঝ শিশু,
বায়না করে অবিরত।
তার কথায় চললে পিছে,
জীবন হবে পরাজয়-তত।
নিজেকে আজ চিনুন নিজে,
শক্তিতে হোন বলীয়ান।
উদ্দেশ্যহীন পথে চলে,
হারাবেন না আপন মান।
অদৃশ্য এক মনের টানে,
পুুতুল হয়ে নাচেন কেন?
বিবেকটাকে খাঁচায় রেখে,
অন্ধ হয়ে বাঁচেন কেন?
কে দিয়েছে অসীম ছাড়?
মনের যত আবদারে।
নিজের রাশ ধরুন এবার,
বিজয় আনুন নিজ দ্বারে।
মনকে দিলেন অঢেল সুখ,
পেলেন কি তার শান্তি খোঁজ?
তৃষ্ণা কি তার মিটল মোটে?
বাড়ছে দাবি নিত্য রোজ।
ইচ্ছার ঐ গোলাম হয়ে,
হারিয়ে ফেললেন শ্রেষ্ঠ ক্ষণ।
শান্তি তো আর ফিরল না,
বৃথাই গেল অমূল্য জীবন।
এবার তবে বিবেক জাগুক,
নতুন আলোর ভোরে।
নিজের রথ চালান নিজেই,
অটল সাহস জোরে।
অন্ধ মনের দাসত্ব আজ,
ত্যাগ করুন একেবারে।
বিবেকের ঐ প্রদীপ শিখা,
জ্বালুন আপন আঁধারে।
বিশ্ব আছে আপনার মাঝে,
জানুন নিজের শক্তিকে।
অদ্বিতীয় অনন্য আপনি,
ভুলুন সস্তা ভক্তিকে।
আপনি নিজেই সর্বজয়ী,
নন তো কভু তুচ্ছ দীন।
নিজের তেজে কাটিয়ে দিন,
পরাধীনতার সকল ঋণ।
ইচ্ছার ঐ লোহার শিকল,
ছিঁড়ে ফেলুন বীরের বেশে।
নতুন ভোরের স্বপ্ন আঁকুন,
নিজের মনের মুক্ত দেশে।
মোহের মায়া চূর্ণ করে,
উন্নত ঐ রাখুন শির।
আপনার ঐ বিক্রম দেখে,
ভয় যেন পায় সকল ভিড়।
নিজের গড়া সাম্রাজ্যের,
আপনি হোন একাই রাজা।
অবাধ্য ঐ অবুঝ মনকে,
শাসন করে দিন তো সাজা।
ইচ্ছারা সব খাটুক আপনার,
আজ্ঞাবহ প্রজার মতো।
ললাটে আজ জয় তিলক,
থাকুন চির-অবনত।
শব্দে জ্বলুক আগুনের রেশ,
জাগুক এবার নতুন প্রাণ।
যুগ-যুগান্ত গাইবে লোকে,
আপনারই এই জয়গান।
শত বছর পরেও যেন,
সবাই খুঁজে পায় দিশা।
সত্যের এই তেজে ঘুচুক,
মনের যত কালো নিশা।
সময়কে খেলনা বানানো জাতি
- A Bengali Poetry On Youth Empowerment By Avijit Ghosh
আড্ডা, প্রেম আর সস্তা বিনোদন,
এভাবেই কি কাটবে এ শ্রেষ্ঠ জীবন?
টিভির পর্দা আর সিরিয়ালের মায়ায়,
নিজেকে হারাচ্ছেন কেনো মিথ্যে ছায়ায়?
বিস্ময় জাগে মনে হেরিয়া এমন...
কী করে হারান এই অমূল্য ক্ষণ?
একটু মজা আর যৌন-সুখের টানে,
পিছিয়ে যাচ্ছেন কেনো পতন পানে?
জানা বাকি আজও যে কত শত পাঠ,
পড়ে আছে সৃষ্টির ওই অসীম মাঠ।
তৈরি করার আছে যে কত্ত কিছু,
কেন তবে ছোটেন ধ্বংসের পিছু?
বোঝার রয়েছে যে কত গূঢ় ইতিহাস,
কেন তবে অলসতায় করছেন এই সর্বনাশ?
বিশ্বের তরে কত কী করার আছে,
ঋণী হয়ে রবেন কি মহাকালের কাছে?
সময়ের দাম যদি দিতে নাহি শেখেন,
সময়ও আপনারে আস্তাকুঁড়েই রাখেন।
মরচে ধরছে আপনার মেধার ধারে,
হারিয়ে যাচ্ছেন বিস্মৃতির আঁধারে।
মানুষ বাঁচে যেন সময় ফুরাবে না,
অথচ শেষবেলা কেউ ফিরেও চাইবে না।
মরে গেলে মনে হবে ছিল না কেউ কভু,
এভাবেই কি বিদায় নেবেন যে প্রভু?
লোকে বলে সময় কেবলই যে সোনা,
আমি বলি ওসব ভুল আনাগোনা।
সময় তো জল, সে তো বয়েই চলে,
তলিয়ে যায় সব আলস্যের অতলে।
জলের ধর্ম শুধু সম্মুখ পানে যাওয়া,
ফিরে আসে না আর হারানো হাওয়া।
হাত চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ে মুহূর্তের কণা,
বসে বসে কেবল করবেন না কি গণনা?
জাল নিয়ে যে নামিবে জীবন-নদীতে,
মণি আর মুক্তা মিলিবে তার ঝুড়িতে।
তীরে বসে শুধু ঢেউ গুনে কী লাভ?
বাড়বে কেবলই মনের দৈন্য স্বভাব।
সময়ের সঠিক ব্যবহার যে জানে,
সাফল্য আসে তার প্রতিটি গানে।
শ্রমের ঘামেই মেলে রত্ন-ভাণ্ডার,
অলসতা আনে শুধু ধ্বংসের জোয়ার।
জেগে ওঠো এবার ওরে আত্মভোলা জাতি,
অন্ধকার চিরে জ্বালো চেতনার বাতি।
সময় নষ্টের বাহানা হোক শেষ,
গড়তে হবে যে এক উন্নত দেশ।
ইতিহাসে নিজের নাম করো অক্ষয়,
সময়ের জয়েই হবে বিশ্বজয়।
এখনো সময় আছে রুখে দাঁড়ান,
অলসতা ত্যজি আজ হতেই নতুন বিশ্ব বানান।
শত বর্ষ পরেও এ কবিতার প্রতিটি বাণী,
জাগিয়ে দেবে ঠিকই আপনার গ্লানি।
বুকে জ্বলিবে এক ললিহান শিখা,
মুছিবে ললাটের সব ব্যর্থতার লিখা।
ভবিষ্যৎ চিনে নেবে আজিকার দিনকাল,
বুঝিবে কেমন ছিল এই সমাজের হাল।
কঠোর এ সত্য যদি শোনায় রুক্ষ,
জাগুক সমাজ—এটাই আমার এক মাত্র লক্ষ্য।
বিরোধিতা আসুক আর আসুক শত ঘৃণা,
সত্য বলিতে আমি কভু হব না তো ক্ষীণা।
হাজারো মানুষ আসিবে সাথী হয়ে,
সর্নিম ভবিষ্যৎ গড়িবো মোরা সব বাধা সয়ে।
ইতিহাসের পাতায় হও আজ অমর,
ছড়াক ভুবনে তব সাহসের খবর।
এখনো সময় আছে ফিরিয়া তাকান,
সময়ের মূল্যে নিজেরে সাজান।
স্বয়ম্ভর - উদ্যোক্তা চেতনা, সৃষ্টিশীলতা ও আত্মনির্ভরতা
ক্রেতার নীরব ইচ্ছে
- A Bengali Poetry On Entrepreneurial mindset By Avijit Ghosh
জনারণ্যের গুঞ্জনে জাগে এক অব্যক্ত সুর,
যেথা লুকানো বাসনা, চেনা গণ্ডি হতে দূর।
পণ্য সাজানো হাটে শুধু চলে বিকিকিনির খেলা,
হৃদয় গহনে তরী বাবে কার নিভৃত অবহেলা?
চাহিদা কেবল অন্ন-বস্ত্রের স্থূল কামনায় নয়,
অস্তিত্বের গূঢ় তৃষ্ণা যেথা গুমরিয়া কথা কয়।
উদ্যোক্তা সেই যে চিনে নেয় আঁখির নীরব ভাষা,
পড়িতে জানে সে ধূলিকণাতেও মানবের শত আশা।
মৌন কামনার মর্ম বুঝিয়া যে জন জোগায় আলো,
তারই সৃজনে বিশ্ব ভুবন বাসিতে শিখেছে ভালো।
বাজারের ধীর প্রবাহ
- A Bengali Poetry On Entrepreneurial mindset By Avijit Ghosh
সময়ের চাকা ঘোরে মন্থর গতির এক তানে,
বাজারের নিগূঢ় সত্য লুকানো গূঢ় অভিমানে।
সহসা জোয়ার আসে না কভু শুষ্ক বালুকা চরে,
ধীরে ধীরে ঢেউ আছড়ে পড়ে জমানো বালুর ঘরে।
উদ্যমী সেই যে বোঝে এই মন্থরতার মূল,
প্রবাহের সাথে তরী বেয়ে পায় সে অকূল কূল।
হুজুগের বেগে ধায় না যে জন স্থির লক্ষ্যে অটল,
তারই জয়ে একদিন জাগে বিশ্বের জয়-কোলাহল।
ধৈর্যের রেখায় আঁকা হয় সার্থকতার চিত্রপট,
মন্থর ধারায় তৃষ্ণা মেটায় জ্ঞানের পুণ্য ঘট।
অন্তরদৃষ্টি ও বাজারের ছায়া
- A Bengali Poetry On Entrepreneurial mindset By Avijit Ghosh
বাহিরের হট্টগোলে সত্য কি কভু মেলে দেখা?
হৃদয়-দর্পণে পড়ে বাজারের বিম্বিত ছায়া একা।
যেথা ভিড় জমে কেবলি বস্তুর মোহে অবিরত,
সেথা প্রজ্ঞা তলে সত্য জাগে ধ্রুবতারার মত।
স্থূল আঁখি দেখে শুধু মূল্যের উত্থান আর পতন,
অন্তরদৃষ্টি খুঁজে পায় মানুষের গহিন রতন।
ছায়ার আড়ালে যেথা লুকানো গূঢ় মনস্তত্ত্ব,
উদ্যোক্তা সাধক চিনে নেয় জীবনের গূঢ় সত্য।
দৃষ্টির গভীরে যদি না জাগে চিন্ময় দিব্য আলো,
তবে মরীচিকা মোহে কাটে দিবস-রজনী কালো।
মানচিত্রে অদৃশ্য শক্তি
- A Bengali Poetry On Entrepreneurial mindset By Avijit Ghosh
কাগজে আঁকা গণ্ডির মাঝে সীমানা দেয় যে টান,
তারই অন্তরে স্পন্দিত হয় এক অলক্ষ্য প্রাণ।
মানচিত্রের রেখায় রেখায় যে শক্তির আনাগোনা,
চতুর জহুরি বিনে তারে কেহ নাহি পায় চেনা।
নদী-নালা আর নগরের ভিড়ে লুকানো যে মায়া-ডোর,
উদ্যোক্তা চিনে নেয় সেথা, নবীন আশার ভোর।
অদৃশ্য সেই শক্তির বলে ঘোরে কাল-চক্রের চাকা,
বিজয় তিলক রচিয়া যেথায় মহিমা রহে আঁকা।
রেখার বাঁধন টুটিয়া যে জন লভে গূঢ় সংকেত,
তারই তরে জাগে ধরণীর বুকে নুতন কর্ম-ক্ষেত।
প্রবাহমান চাহিদার ছন্দ
- A Bengali Poetry On Entrepreneurial mindset By Avijit Ghosh
চাহিদা তো নয় স্থির কোনো জড় পাষাণের স্তূপ,
সে যে চঞ্চল ঝরনাধারা, ধরে কত শত রূপ।
কখনো সে ধায় তপ্ত মরুর তৃষ্ণার হাহাকারে,
কখনো বা জাগে বর্ষার মত হৃদয়ের দ্বারে দ্বারে।
সময়ের সাথে তালের লয়ে বদলায় তার সুর,
উদ্যোক্তা সেই শোনে - যা অন্যদের কানে, মনে হয় দূর।
ছন্দের দোলে মানবমনের নিত্য নুতন আসা,
পণ্য-সেবায় গাঁথা হয় আজ মানুষের ভালোবাসা।
মর্ত্যের এই বিচিত্র রুচি প্রবাহে যে দেয় পাড়ি,
সফলতার সেই স্বর্ণশিখর শুধু কেবল তারই।
নীরব প্রভাবের জাল
- A Bengali Poetry On Entrepreneurial mindset By Avijit Ghosh
নয়নে যা নাহি পড়ে, তারে কি উপেক্ষা করা সাজে?
সূক্ষ্ম তন্তুর জালে বিশ্ব বাঁধা পড়ে তিলে তিলে কাজের মাঝে।
অলক্ষ্যে বিস্তার করে যে মায়া স্বীয় প্রভাবের কর,
উদ্যোক্তা জানে সেথায় লুকানো আপনার ও পর।
শব্দহীন পদাঘাতে যে ইচ্ছা দ্বারে এসে দাঁড়ায়,
চেতনাহীন লোক সেথা বৃথাই আপন প্রাণ হারায়।
কিন্তু কুশলী শিল্পী বোঝে সংকেতের মর্মবাণী,
নীরব প্রভাবের গ্রন্থি টুটিয়া আনে সাফল্যের হাতছানি।
জালের বুননে নিহিত থাকে গভীর এক মনস্তত্ত্ব,
নিভৃতে যা গড়ে তোলে আগামীর সার্বভৌম সত্য।
লক্ষ্য নির্ধারণের সূক্ষ্মতা
- A Bengali Poetry On Entrepreneurial mindset By Avijit Ghosh
লক্ষ কোটি তারার মাঝে ধ্রুবতারাটি যথা স্থির,
লক্ষ্যভেদী বীরের আঁখি রহে সদা উন্নত শির।
স্থূল দৃষ্টি দেখে কেবল গন্তব্যের ওই রেখা,
সূক্ষ্ম বিচার লভে সেথায় গূঢ় সত্যের দেখা।
বিন্দু মাঝে সিন্ধু খুঁজিয়া পাওয়াই শ্রেষ্ঠ কাজ,
উদ্যোক্তার মস্তকে তাই শোভা পায় জয়ের তাজ।
বি লক্ষ্যহীন শ্রম যেথা বৃথা বালুকার ঘর্ষণ,
সূক্ষ্ম লক্ষ্য আনে তবেই অভীষ্টের বর্ষণ।
ধনুকধারী যেমন চিনে তিরের নিঁখুত গতি,
সৃজনশীল প্রাণ খুঁজে পায় স্বীয় কর্মের জ্যোতি।
বাজারের অব্যক্ত ভাষা
- A Bengali Poetry On Entrepreneurial mindset By Avijit Ghosh
কলরবমাঝে নীরব যে বাণী ধ্বনিছে নিরন্তর,
সে ভাষা চেনে না সাধারণ লোক, চেনে না তরী-চর।
পণ্যের ভিড়ে মানুষের মন কী যেন বলিতে চায়,
উদ্যোক্তা সেই গূঢ় বারতা নিভৃতে খুঁজিয়া পায়।
নাহিকো শব্দ, নাহিকো লিপি, কেবলি প্রাণের টান,
চাহিদার মাঝে লুকানো থাকে ব্যথিতের অভিমান।
মৌন আঁখির ইশারা যে জন পড়িতে শিখেছে আজ,
তাহারই তরে সহজ হয় যে কঠিন কর্ম-কাজ।
অব্যক্ত সেই বেদনার সুরে সুর মিলায় যে জন,
সৃষ্টির মাঝে সার্থক হয় তাহার অনন্য পণ।
ক্রেতার অভ্যাসের পথ
- A Bengali Poetry On Entrepreneurial mindset By Avijit Ghosh
চেনা ছকে বাঁধা মানবের মন, চিরাচরিত সে পথ,
অভ্যাসের টানে ধাবমান সদা জীবনের জয়রথ।
দিবস-রজনী একই চরণে পড়ে যে পদচিহ্ন,
সেথা লুকানো থাকে প্রবৃত্তি, যাহা চেনা অতি ভিন্ন।
পুরাতন পথে নূতনের আলো জ্বেলে দেয় যে জন,
সে চিনেছে অতি সূক্ষ্মভাবে মানুষের আচরণ।
সহসা আসে না বদল কভু মনের গহন কোণে,
উদ্যোক্তা সেই জাল বুনে যায় অতি ধীর সাবধানে।
অভ্যাসের এই দীর্ঘ মিছিলে যে জন দিশারি হয়,
যুগের বাজারে সেই তো লভিবে নিশ্চিত বিজয়।
প্রবণতার অন্তর্দৃষ্টির দীপ
- A Bengali Poetry On Entrepreneurial mindset By Avijit Ghosh
তিমির রজনী কাটিবে বলিয়া জ্বালো রে প্রজ্ঞার আলো,
অনাগত সেই ঝড়ের সঙ্কেত চিনে নেওয়া তবে ভালো।
প্রবণতা ধায় অলক্ষ্য বেগে মহাকালের এই রথে,
উদ্যোক্তা সেই যে দীপ জ্বালে আঁধারের রাজপথে।
হুজুগের বায়ু বহিবে যখন দিগন্ত হতে দূরে,
স্থিরমতি প্রাণ বাঁধিয়া রাখিবে গান নির্ভয় সুরে।
অন্তর্দৃষ্টির প্রদীপে যে জন ভবিষ্যৎ গড়ে আজ,
তারই কর্মে ধন্য হইবে আগামীর সব কাজ।
দিব্য জ্ঞানই মুক্তির পথ, সত্যের ধ্রুব জ্যোতি,
সেই আলোকেই সার্থক হয় মানবের সৃজন-মতি।
অন্তরধ্বনি - চরিত্র, বিবেক ও নৈতিক নেতৃত্ব
মানুষ হবার অপরাধ
- A Bengali Poetry On Character Development By Avijit Ghosh
সবাই যখন ভিড়ের জোয়ারে গা ভাসিয়ে দেয় সুখে,
তুমি কেন তবে সত্যের মশাল তুলে ধরো নিজ মুখে?
চারিদিকে চলে আপোসের খেলা, মিছে অভিনয় সারা,
সেথা সোজা পথে হাঁটাই যেন গো মস্ত এক ভুল করা।
পশুর মতন খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাটাই যদি হয় কাজ,
তবে মানুষ হওয়ার দাবি নিয়ে তুমি কেন আসো আজ?
শির উঁচিয়ে চলা যেথা ঘোর বারণ এ সমাজ-ঘরে,
সেথা নীতি নিয়ে বাঁচলে লোকে যে উপহাস শুধু করে।
বিবেকের ডাক শুনলে এখানে সইতে হয় বহু চোট,
তবু মানুষ হওয়াই শ্রেষ্ঠ জেদ, ভাঙুক যত আছে জোট।
নতজানু প্রজন্মের বিরুদ্ধে ঘোষণা
- A Bengali Poetry On Character Development By Avijit Ghosh
মস্তক নত করে বেঁচে থাকা কি জীবনের পরিচয়?
ভীরুর মতন মেনে নেওয়া সব, এ তো বড় পরাজয়।
যৌবন আজ স্তব্ধ কেন গো, কেন চরণে শিকল?
অন্যায় দেখেও জাগে না কেন রে বিদ্রোহী কোলাহল?
যুগ যুগ ধরে গোলামির বিষে রক্ত হয়েছে কালো,
তাই তো আঁধারে পথ খুঁজে পেতে জ্বলে না মুক্তি-আলো।
শিরদাঁড়া যারা বন্ধক রেখে বিলায় মিছে হাসি,
তাদের তরেই আকাশ জুড়ে আজ বাজে প্রলয়-বাঁশি।
ঘুমায়ে থেকো না শৌর্য হারায়ে ওরে ও চির নবীন,
ঘোষণা করো আজ ভাঙিতেই হবে দাসত্বের এই ঋণ।
ভিক্ষার ভাত ছুড়ে ফেলে দাও
- A Bengali Poetry On Character Development By Avijit Ghosh
পরের করুণা মাখা অন্ন কি মিটায় প্রাণের ক্ষুধা?
সে তো অপমানের হলাহল, নহে কোনো অমৃত সুধা।
হাত পেতে পাওয়া ঐশ্বর্য যে চুরমার করে মান,
পরাধীন হয়ে বেঁচে থাকা মানে নিজেরই মৃত্যুবাণ।
নিজের শ্রমের রুক্ষ অন্ন অনেক বেশি যে প্রিয়,
অন্যের দয়া তুচ্ছ করিয়া আপন শক্তিকে চিয়ো।
যাচকবৃত্তি ঘুচিয়ে এবার জাগো রে আত্মবলে,
সফলতা তবে আসিবে আপনি তোমারই চরণতলে।
উচ্ছিষ্টের মায়ায় যারা গো বিলায় নিজের স্বত্ব,
তারা কি জানে না আত্মমর্যাদাই জীবনের ধ্রুব সত্য?
ক্ষুদ্র জীবনের লজ্জা
- A Bengali Poetry On Character Development By Avijit Ghosh
শুধু নিজেরটুকু গুছিয়ে নিয়ে কাটবে কি সারা বেলা?
এ তো বড় গ্লানি, এ যে অতি তুচ্ছ প্রাণের খেলা।
যে জীবন শুধু নিজেরই উদর ভরিতে মত্ত রয়,
সে জীবনের বিনাশ ঘটে যে, নাহি হয় তার জয়।
বিশাল এই বিশ্বের মাঝে ক্ষুদ্র যে জন একা,
তার ললাটে তো মহত্ত্বের আলোক পড়ে না দেখা।
পরের তরে কি জাগে না মনে এক তিলও সমবেদনা?
স্বার্থের অন্ধ গলিতে যায়, আসল বীরকে চেনা।
আকাশের মতো হৃদয় না হলে বাঁচাটাই এক দায়,
ক্ষুদ্রতা নিয়ে বেঁচে থাকা শুধু তুচ্ছ মানুষকে মানায়।
আরামের শবযাত্রা
- A Bengali Poetry On Character Development By Avijit Ghosh
গা বাঁচিয়ে চলা আর আরামের ঘুমে ডুবে থাকা,
এ তো আসলে নিজের হাতেই নিজের মরণ আঁকা।
বিলাসের মোহে যারা আজ শুধু ভুলেছে লড়াইয়ের পথ,
অলসতা তাদের থামিয়ে দিয়েছে জীবনের জয়রথ।
আয়েশে গা এলিয়ে দিলে মনের ধার যে কমে যায়,
সুযোগ পেলেই আলস্য এসে সাহসকে গিলে খায়।
ঝুঁকি নিতে যে ভয় পায় আজ, যে খোঁজে শুধু সুখ,
ভবিষ্যতের আয়নায় সে তো দেখবে নিজেরই মরা মুখ।
নরম বিছানা আসলে এক মস্ত বড় ফাঁদ,
সেখানে হারায় জেদ আর সব সফল হবার সাধ।
আত্মসমর্পণের শিক্ষা
- A Bengali Poetry On Character Development By Avijit Ghosh
হার মানার এই বিষাক্ত পাঠ নিও না কখনো মনে,
বিজয়ীর বেশে লড়াই করো জীবনের প্রতি ক্ষণে।
পরাজয় মেনে গুটিয়ে থাকা যে আসলে মস্ত ভুল,
আঘাত সয়েই খুঁজে নিতে হয় মাঝ দরিয়ার কূল।
শত্রুর কাছে নত হওয়া মানে মেরুদণ্ডকে বেচা,
নিজের হাতেই নিজের সম্মান ধুলোয় লুটিয়ে নাচা।
অন্যায় যত আসুক সামনে, থেকো না কভু স্থির,
রুখে দাঁড়ানোই বীরের ধর্ম, নামিও না কভু শির।
শক্ত হতে শেখো আজ তুমি, ছাড়ো ওরে সংশয়,
লড়াইয়ের মাঠেই লেখা থাকে সার্থকতার পরিচয়।
রক্তে লেখা অসম্মতি
- A Bengali Poetry On Character Development By Avijit Ghosh
ভুলকে যে ভুল বলতে পারে না, সে আসলে মানুষ নয়,
চোখ রাঙানি দেখে ভয় পাওয়াটাই সবচেয়ে বড় পরাজয়।
সবাই যখন মাথা নিচু করে অন্যায়ের সাথে মেশে,
তুমি কেন তবে চুপ করে রবে এই মরা দেশে?
মেনে নেওয়া মানেই তিলে তিলে নিজেকে শেষ করা,
প্রতিবাদহীন জীবন মানেই জ্যান্ত অবস্থায় মরা।
সুযোগ পেলেই যারা কেড়ে নিতে চায় তোমার নিজের অধিকার,
তাদের মুখের ওপর সজোরে বলো— মানি না এই অবিচার।
রক্ত দিয়েও যদি রুখতে হয় তবে তাই হবে ঠিক,
অসম্মতিই বীরের ধর্ম, মনে রেখো নির্ভিক।
নীরবতার পাপ
- A Bengali Poetry On Character Development By Avijit Ghosh
চোখের সামনে অন্যায় দেখেও কেন তুমি থাকো চুপ?
নীরব থাকা মানেই তো ভাই অন্ধকার এক কুপ।
সবাই যখন মিথ্যের কাছে নিজেকে দেয় বিকিয়ে,
তুমি কেন সর্ষে ফুলে থাকো নিজের মুখ লুকিয়ে?
তোমার এই নীরবতাই আসলে অন্যায়ের বড় জোর,
চুপ করে থাকলে, কখনোই আসবে না মুক্তির সেই ভোর।
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সয়— দুজনেই সমান জানি,
বিবেকের কাছে এই পাপের জন্য তুমি রবে চির ঋণী।
শহর যখন পুড়ছে আগুনে, তুমি কেন কথা বলো না?
এই মৌনতা আর কিছু নয়, এ তো নিজের সাথেই ছলনা।
সন্তুষ্টির কফিন
- A Bengali Poetry On Character Development By Avijit Ghosh
অল্পতেই যে খুশি হয়ে যায়, তার উন্নতি আর নেই,
তুচ্ছ কারণে লক্ষ্য হারিয়ে হারাবে সে নিজেকেই।
সব পেয়ে গেছি— এই ধারণা আসলে একটা ফাঁদ,
রাজকীয় সব স্বপ্নসমূহ সেখানেই পরে বাদ।
আরামে দিন কাটছে বলে যদি মনে হয় সব ঠিক,
তবে খুব শিগগিরি গ্রাস করবে তোমায় চিন্তা শতাধিক।
যেখানে নতুন কিছু করার ইচ্ছেটা একবারে থেমে যায়,
সেখানেই মানুষের আসল প্রতিভা আর তেজকে সে নিজেই গিলে খায়।
সন্তুষ্ট হওয়া মানেই নিজের উন্নতি কে রোধ করা,
বেঁচে থেকেও আসলে তখন তিলে তিলে মরা।
মেরুদণ্ডহীন সুখ
- A Bengali Poetry On Character Development By Avijit Ghosh
পরের পায়ে তেল দিয়ে পাওয়া সুখের চেয়েও বেশি ভালো,
নিজের পরিশ্রমে জ্বালানো সামান্য মাটির প্রদীপের আলো।
মাথা নিচু করে যারা শুধু হাত জোড় করে বাঁচে,
তাদের কোনো সম্মান থাকে না এই সমাজের কাছে।
অন্যায় মেনে পকেটে যদি আসে অনেক কাঁচা টাকা,
সেই জীবন তো আসলে ভেতর থেকে একদমই ফাঁকা।
শিরদাঁড়া বাঁকিয়ে যারা শুধু খুঁজে বেড়ায় সস্তা আরাম,
পশুর মতন বেঁচে থাকাতেই তারা খুঁজে পায় বিরাম।
যৌবন যার শিরদাঁড়া হারিয়ে শুধু আরামের নেশায় মত্ত,
সে কোনোদিন জানবে না যে মানুষের আসল কী সত্য।
দিব্যসত্তা - ধর্মের শুদ্ধ রূপ, ভেতরের ঈশ্বর ও সাহস
নামের আগে আমি
- A Bengali Poetry On The Truth Of Spirituality By Avijit Ghosh
জন্মের পর দুনিয়া আমায় একটা নামে ডাকলো,
সেই নামটাই আমার আসল পরিচয় হয়ে থাকলো।
কিন্তু একটু ভেবে দেখো তো, যখন ছিলে না এই ধরায়,
নাম ছাড়া সেই 'তুমি' কে ছিলে, কে বা তোমায় চালায়?
নাম তো কেবলই বাইরের একটা আলগা তালি দেওয়া তকমা,
এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অচেনা অদ্ভুত মহিমা।
বইয়ের পাতায় বা দলিলে যে নামটা তুমি পাও,
সেই নামটা বাদ দিলে কি তুমি হারিয়ে কোথাও যাও?
নিজের ভেতর ডুব দিয়ে দেখো, নামহীন এক ধারা,
সেই যে আদি 'আমি' টা তোমার, নাম ছাড়াই সে দেয় সাড়া।
দেহের ভিতর নীরব সাক্ষী
- A Bengali Poetry On The Truth Of Spirituality By Avijit Ghosh
এই যে শরীর নড়াচড়া করে, সারাদিন কত কথা বলি,
ভেতরে বসে কেউ একজন দেখছে— যে আমি কোন পথে চলি।
আমি যখন সুখে হাসি কিংবা গভীর দুঃখে কাঁদি,
সে তখন চুপচাপ তাকিয়ে থাকে, সে তো নয় কোনো প্রতিবাদী।
তার নেই কোনো চাওয়া-পাওয়া, নেই কোনো নালিশ,
সে যেন এক স্থির পাহাড়, গভীর শান্ত এক আশিস।
বাইরে যখন ওঠে ঝড় আর মনে জাগে দোটানা,
ভেতরের সেই মানুষটি সব দেখে, তার কিছুই তো নেই নতুন - অজানা - অচেনা।
দেহ তো কেবল একটা ঘর, আজ আছে কাল নেই,
কিন্তু ভেতরের সেই সাক্ষীটি জেগে থাকে সব মুহূর্তেই।
আয়নায় যে তাকায় সে কে?
- A Bengali Poetry On The Truth Of Spirituality By Avijit Ghosh
আয়নার সামনে দাঁড়ালে যখন নিজের মুখটি দেখো,
যাকে তুমি দেখছো— তার খবর আসলে কতটা রাখো?
চোখ-নাক-মুখের এই যে চেহারা, এ তো কেবলই একটা মায়া,
দিনশেষে এই সবটাই তো আসলে রক্ত-মাংসের এক ছায়া।
যাকে তুমি পাউডার - ফেস ওয়াশ হাবি যাবি দিয়ে রোজ যে এত যত্নে সাজাও,
সেই মানুষটা কি আসল তুমি? না কি কেবলই লোক দেখাও?
আয়নায় যে ছবিটা হাসে, কিম্বা মুখভার করে থাকে,
আসল তুমিটা কি লুকিয়ে আছো অন্য কোনো এক বাঁকে?
বাইরের এই অবয়বটা তো সময়ের সাথে বদলে যাবে,
কিন্তু তোমার ভেতরের সেই মানুষটাকে কোথায় তুমি খুঁজে পাবে?
শ্বাসের মাঝে যে থাকে
- A Bengali Poetry On The Truth Of Spirituality By Avijit Ghosh
জন্মের পরেই যে বাতাসটুকু প্রথম টেনেছিলে বুকে,
সেই থেকে এই দমের খেলা চলছে তোমার সুখে-দুখে।
একবার নেওয়া, একবার ছাড়া— এই তো প্রাণের আসা-যাওয়া,
এরই মাঝে লুকিয়ে আছে তোমার সবটুকু চাওয়া-পাওয়া।
নিশ্বাস যখন ছাড়ছো তুমি, জানো কি তা ফিরবে কিনা?
এই দমের ওপর দাঁড়িয়ে আছে তোমার সকল দেনা-পাওনা।
যেদিন বাতাস ছাড়বে শুধু, আর হবে না নতুন করে নেওয়া,
সেদিনই বুঝবে ফুরিয়ে গেছে তোমার সময়ের এই খেয়া।
হাতের সময় বড্ড অল্প, ফুরিয়ে যাচ্ছে দমে দমে,
হিসাব কি তোমার তৈরি আছে— যখন প্রাণটা যাবে থেমে?
ভাবের আগেও যে সত্য
- A Bengali Poetry On The Truth Of Spirituality By Avijit Ghosh
মনে যখন চিন্তা জাগে, কিম্বা হয় কোনো ভাবের উদয়,
তারও আগে এক গভীর সত্য নিজের মাঝেই জেগে রয়।
রাগ-অনুরাগ কিম্বা দুঃখ— এ তো মনের আসা-যাওয়া,
তার চেয়েও আদি তোমার সত্তা, তোমার আসল পাওয়া।
চিন্তাগুলো মেঘের মতন মনের আকাশে ভেসে যায়,
কিন্তু আকাশ যেমন অটল থাকে, সত্য তেমনি স্থির রয়।
অনুভূতিরা রঙ বদলায়, পলকে হয় ইতি,
অথচ তুমি সেই একই আছো— আদিম এক স্থিতি।
সব ভাবনার আড়াল থেকে নিজেকে এবার চিনে নাও,
ভাবের অতীত যে এক 'তুমি'— সেই সাগরে ডুব দাও।
আমি শুধু দেহ নই
- A Bengali Poetry On The Truth Of Spirituality By Avijit Ghosh
মাটির পুতুল এই যে শরীর, পঞ্চভূতে গড়া,
একে নিয়েই দিনরাত তোমার বাঁচা কিংবা মরা।
রক্ত-মাংসের খাঁচাটা তো কেবল বাইরের এক ঘর,
একে আমায় ভাবলে কেন? এ তো কেবল নশ্বর।
আঘাত পেলে শরীর কাঁদে, অসুখ হলে ভোগে,
তবে জেনেশুনে কেন তুমি জড়াচ্ছ এই রোগে?
দেহ তো আজ আছে বলেই কালকে হবে ছাই,
ভিতরে যে আসল মানুষ— তার কি বিনাশ আছে ভাই?
খোলস ছেড়ে আয়নার মাঝে নিজেরে আজ অন্য চোখে দেখ,
আমি মানে কি শুধুই শরীর? প্রশ্নটা আজীবন মনেই গেঁথে রাখো।
স্মৃতির বাইরে চেতনা
- A Bengali Poetry On The Truth Of Spirituality By Avijit Ghosh
পুরনো দিনের যত কথা মাথায় কেবল ভিড় করে,
কখনো হাসায়, কখনো বা আবার দুখ জাগায় ঘরে।
সব স্মৃতি কি মনে থাকে? কত কিছুই তো যায় ভোলা,
তা বলে কি তোমার ভেতর বন্ধ থাকে প্রাণের খেলা?
স্মৃতি তো এক পুরনো পুঁথি, পাতাগুলো তার ক্রমে ক্রমে ক্ষয়ে যায়,
কিন্তু তোমার 'হওয়া' টা কি কেবল খাতার পাতায় রয়?
নাম-ধাম আর কাজ-কাম সব যদি আজ ভুলো বন্ধু,
তবুও তো তুমি আছো জেগে— যেমন লোনা সিন্ধু।
মনে থাক বা না থাক কিছু, তাতে তোমার কী বা আসে?
চেতনা তো এক গভীর নদী, বয়ে চলে নিজের আশে।
জন্মের আগে প্রশ্ন
- A Bengali Poetry On The Truth Of Spirituality By Avijit Ghosh
জন্মের আগে কোথায় ছিলে, কার কাছে ছিল ঠাঁই?
সেই খবর কি নিজের ভেতর আজও খুঁজে পাই?
মাটির ধরায় আসার আগে ছিলে তুমি কোন দেশে,
নাম-পরিচয় ছিল না যখন, ছিলে তুমি কোন বেশে?
মা-বাবার ওই রক্ত-মাংসে তৈরি হলো এই কায়া,
কিন্তু যে জন ভেতরে রয়— সে কি শুধুই মায়া?
হঠাৎ করে এলে তুমি, আবার একদিন যাবে চলে,
মাঝখানের এই সময়টুকু কাটাও কেবল হেলেদুলে।
আসার আগের খবর যদি আজও তোমার জানা নাই,
তবে কিসের বড়াই করো— ওরে মনের ভাই?
মৃত্যুর পরে উত্তর
- A Bengali Poetry On The Truth Of Spirituality By Avijit Ghosh
জীবনভর তো কত কিছুই করলে, কত কিছুই জানলে,
শেষের দিনে হিসেবগুলো নিজের মতো টানলে।
দেহটা যখন পড়ে থাকবে, লোকে বলবে 'গেলো',
তখন তুমি কোথায় যাবে— সব কি তবে এলোমেলো?
যাকে তুমি সারাজীবন নিজের বলে ভাবলে,
সেই দেহটাই মটির সাথে মিশবে এবার তাহলে।
সংসারের এই মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে যখন যাবে একা,
তখন কি আর তোমার সাথে হবে নিজের দেখা?
বাইরের এই নাম-পরিচয় সব রয়ে যাবে পিছে...
মিথ্যে তোমার অহংকার, সব গল্প হবে মিছে।
নিজের মাঝে অচিন নদী
- A Bengali Poetry On The Truth Of Spirituality By Avijit Ghosh
তোমার নিজের বুকের ভেতরে এক অচিন নদী বয়,
সারাটা জীবন কেটে গেল, তবু হলো না তার পরিচয়।
তীরে বসে শুধু বাইরের সাগরেই দুচোখ মেলে চাইলে,
ঘরের কাছের সেই নদীটার দেখা কি আর পাইলে?
নদীটার কোনো শেষ নাই, নেই তো কোনো কূল,
তারে চিনতে না পেরেই জীবনভর করেছো যত ভুল।
কাজের ভিড়ে দিনের বেলা সেই নদীর ডাক কি শোনা যায়?
সে তো কেবল চুপটি করে তোমার গভীর মনে বয়ে যায়।
একবার যদি সেই নদীতে নিজের তরীটা ভাসাও,
তবেই বুঝবে আসল তুমি— কোন ঠিকানায় যাও।
অদম্য - শারীরিক শক্তি, যোগ, শৃঙ্খলা ও আত্মসংযম
নীরব প্রতিশ্রুতি
- A Bengali Poetry on The Revival of Bodily Strength By Avijit Ghosh
মনের গহিন কোণে একলা বসে
নিলে না হয় এক কঠিন শপথ,
আজ থেকে চেনা ছক ফেলে দিয়ে
খুঁজলে নিজের পথ।
কাউকে কিচ্ছু বললে না তুমি,
গোপন রাখলে জেদ,
আলসেমি আর জড়তার সাথে
ঘুচিয়ে দিলে ভেদ।
পেশী তন্তুর গভীরে লুকানো
আদিম সেই এক ঘ্রাণ,
ভিতর থেকে ডাক দিয়ে আজ
জাগিয়ে তুললে প্রাণ।
বাইরে কেবল নিস্তব্ধতা,
নেই কোনো কোলাহল....
বুকের খাঁচায় তিল তিল করে
জমছে অজেয় বল।
নিজের কাছেই নিজের এই দায়,
কথা দিলে আজ তুমি—
এই ঘামেই এবার উর্বর হবে
শরীরের মরুভূমি।
নীরবতায় পেশীর জাগরণ
- A Bengali Poetry On The Revival of Bodily Strength By Avijit Ghosh
স্থির হয়ে আজ বসলে যখন, থামলো মনের সব কোলাহল,
আড়মোড়া ভেঙে পেশীর গভীরে জাগছে এক আশ্চর্য বল।
চুপচাপ এই বসে থাকার মাঝে শিরায় শিরায় টান লাগে,
অব্যবহৃত প্রতিটি তন্তু যেন নতুন কোনো মন্ত্রে জাগে।
রক্তের স্রোতে ঢেউ উঠেছে, অথচ বাইরে শান্ত কায়া,
পেশীর খাঁচায় জীবন যেন খেলছে এক মায়া।
লোহার মতো শক্ত বাঁধুনি গড়ে ওঠে তিল তিল করে,
এক অজানা উত্তাপ আজিকা ছড়িয়ে পড়ছে ঘরে।
হাড়ের কাঠামোয় শক্তির খেলা, অথচ নেই কোনো শব্দ,
নিজের কাছেই নিজের শরীর আজ হতে চায় চরম জব্দ।
ক্লান্ততাকে অভ্যাস
- A Bengali Poetry On The Revival of Bodily Strength By Avijit Ghosh
শরীরে যখন বিষম ভার, পা দুটো আর চলতে চায় না,
তখনই জেনো এ আসল লড়াই, সহজ পথে শক্তি কেও পায় না।
হাঁপিয়ে ওঠা ওই বুকের খাঁচায় দমকে যখন লাগে টান,
সেই কষ্টকেই সঙ্গী করো, গেয়ে চলো জয়ের গান।
অবসাদ এসে দুচোখ ঢাকে, তন্দ্রা যদি দেয় হানা,
ক্লান্তির সাথে সখ্য করো— হার মেনে নেওয়া মানা।
ঘাম ঝরে পড়ুক তপ্ত মাটিতে, শরীরটা হোক বজ্র সম-কঠিন,
অভ্যাস করো যন্ত্রণাকেই, তবেই ঘুচবে মনের ঋণ।
পিছিয়ে যাওয়ার হাজারো বাহানা ভিড় করে আজ মগজে,
ক্লান্তিই হোক তোমার বর্ম, নাম লেখা হোক নতুন কাগজে।
নিয়মই স্বাধীনতা
- A Bengali Poetry On The Revival of Bodily Strength By Avijit Ghosh
নিজেরে বাঁধিলে কঠিন নিয়মে, দিনলিপি ছক-কাটা,
আলগা মায়ার শিকল ছিঁড়ে, এক নতুন পথে হাঁটা।
ভোরের আলোয় যখন তুমি নিজেরে করো শাসন,
আসলে তুমি তৈরি করছো— জয়ের এক সিংহাসন।
মন!! যে পাখির মতো উড়তে চায়, তারে তুমি দিলে লাগাম,
নিজের জন্য নিজেরই ভিতরে এই সেই সংগ্রাম।
এলোমেলো ওই জীবনটাকে গুছিয়ে নাও তুমি নিজের হাতে,
আলোর দিশা খুঁজে পাবেই তুমি... মেঘে ঢাকা প্রভাত অথবা ঘোর অমাবস্যার রাতে।
নিয়ম মানেই কারাবাস নয়, এ তো স্বচ্ছ দর্পণ,
নিজেরে চেনার শ্রেষ্ঠ উপায়— অভ্যাসে প্রাণ সমর্পণ।
ঘামের পুত্র দৃঢ়তা
- A Bengali Poetry On The Revival of Bodily Strength By Avijit Ghosh
কপাল বেয়ে লোনা জল যখন গড়িয়ে পড়ে মাটিতে,
নতুন তেজ জন্ম নেয় তোমার হাড়ের খাঁটিতে।
শরীরের এই বিন্দু বিন্দু ঘাম তো কেবল জল নয়,
তিল তিল করে জমছে তোমার অজেয় হওয়ার পরিচয়।
জেদ যখন রক্তের সাথে মিশে গিয়ে এক হয়,
তখনই তো মানুষ আপন ঘামে করে নিজেরে জয়।
আলসেমির ওই নরম বিছানা ছেড়ে দিলে আজ তুমি,
তপ্ত ঘামেই উর্বর হবে তোমার শক্তির মরুভূমি।
হতাশা আর ক্লান্তি যত ধুয়ে মুছে যাবে দূরে,
দৃঢ়তা তোমার গান গেয়ে যাবে ঘামের চেনা সুরে।
শরীরকে শিক্ষাদান
- A Bengali Poetry On The Revival of Bodily Strength By Avijit Ghosh
শরীর তো এক অবাধ্য ঘোড়া, ছুটতে চায় সে আপন মনে,
তারে তুমি বশ মানাবে— প্রতি পলে, প্রতিক্ষণে।
আয়েশ খোঁজে এই হাড়-মাংস, খোঁজে সে শুধু নরম কোল,
শাসন দিয়ে থামাও তবে তার ওই ভেতরের গণ্ডগোল।
যখনি সে বলবে 'থামছি', তুমি বলবে 'আরেকবার',
নিজের ওপর দখল রাখা— এ এক কঠিন চমৎকার।
ইচ্ছেমতো হাত-পা নাড়ে, ইচ্ছেমতো চলতে চায়,
বুদ্ধি দিয়ে তারে তুমি বাঁধো নিজের আঙিনায়।
হাড়ের কাঠামোয় বসাও আজিকা নিজেরই কঠোর শাসন,
তবেই দেহের রাজা হয়ে তুমি পাবে শ্রেষ্ঠ সিংহাসন।
ক্লান্তির পরে দাঁড়ানো
- A Bengali Poetry On The Revival of Bodily Strength By Avijit Ghosh
পেশীর তন্তু ছিঁড়ে যায় যদি, শরীর মানে হার...
বুকের অতলে জ্বলুক আগুন— কঠিন দুর্নিবার।
শিরা ও ধমনী অবশ হলেও, ললাটে থাকুক তেজ,
ঘামের লোনায় ধুয়ে যাক আজিকা ক্লান্তি ও সব রেশ।
মাটি যদি আজ গ্রাস করে দেহ, থামায় চলার গতি,
ধুলো ঝেড়ে উঠে দাঁড়ানোই— বীরের প্রকৃত নীতি।
দুচোখে আঁধার ঘনালে বন্ধু, তিমির করছ জয়,
পতন মানেই বিনাশ নয় তো, সে যে নব পরিচয়।
পরাজয় নিয়ে ফেরার চেয়েও, মরণ অনেক ভালো,
ক্লান্তির পরে দাঁড়ানো মানেই— নতুন ভোরের আলো।
শ্বাসের ছন্দে শক্তি
- A Bengali Poetry On The Revival of Bodily Strength By Avijit Ghosh
নাসারন্ধ্রে বায়ুর প্রবেশ, শান্ত ও গভীর,
বুকের খাঁচায় সঞ্চার হয়— অদ্ভুত এক বীর।
নেওয়া আর ছাড়া— এই তো ছন্দ, প্রাণের আদিম সুর,
নিয়মিত টানে কেটে যায় আজ— অলসতার ওই পুর।
ফুসফুস যখন পূর্ণ জোয়ারে, রক্তে লাগে ঢেউ,
শরীরের এই গুপ্ত খবর— জানে না তো আর কেউ।
উত্তাল মনে প্রশান্তি আনে, স্থিরতা দেয় প্রাণ,
শ্বাসের টানেই রচিত হোক— অজেয় হওয়ার গান।
দম যত হবে দীর্ঘ ও ধীর, পেশীতে বাড়বে বল,
স্থির দেহটাই আসলে তোমার— শক্তির এক অতল।
ভোরের আলোয় স্বপ্ন
- A Bengali Poetry On The Revival of Bodily Strength By Avijit Ghosh
তিমির রজনী বিদায় নিয়েছে, ছিঁড়েছে ঘুমের ঘোর,
ললাটে তোমার আশার তিলক— এনেছে নতুন ভোর।
সূর্য ওঠার আগেই জাগো, ছেড়ে আলসেমি খাট,
তোমার অপেক্ষায় সাজানো আছে— বিশ্বজয়ের মাঠ।
শিশিরভেজা ঘাসের ডগায়, যখন পড়বে পা,
ধমনী জুড়ে বইবে তখন— তেজস্বী প্রেরণা।
ক্লান্ত চোখে স্বপ্ন থাকুক, বুকে অসীম বল,
আলোর বন্যায় ধুয়ে যাক আজিকা— সমস্ত হলাহল।
দিনের প্রথম কিরণ তোমায়, দিক এক নতুন গান,
ভোরের আকাশ সাক্ষী থাকুক— বীরের নব উত্থান।
নীরব ধৈর্যের গান
- A Bengali Poetry On The Revival of Bodily Strength By Avijit Ghosh
তাড়া নেই কোনো ফলের আশায়, শান্ত থাকুক মন,
মৌনতাতেই লুকিয়ে থাকে— শক্তির জাগরণ।
পাথর কাটার মতন কঠিন, নিজেরে গড়ার কাজ,
ধৈর্যের এই সাধনাতেই— জিতবে তুমি আজ।
বাইরে থাকুক নিস্তব্ধতা, ভেতরে চলুক রণ,
সহ্য করাই বীরের ধর্ম, জয়ের সমীকরণ।
শিকড় যেমন মাটির গভীরে, অটল এবং স্থির,
ঝড় এলেই ঠিক চেনা যাবে— কে আসল লড়াকু বীর।
কোলাহল নয়, কাজ করে যাও— নিভৃতে নিজের মনে,
ধৈর্যের গান বাজুক কেবল— প্রাণের গহীন কোণে।
মুক্তবোধ - শিক্ষা, চিন্তার স্বাধীনতা ও প্রশ্নের অধিকার
পরিচয়ের আগের মানুষ
- A Bengali Poetry On Freedom By Avijit Ghosh
তকমা বা জাত আসার আগে, মানুষই ছিল সার,
হৃদয়ে ছিল সাম্যের সুর, অভিন্ন সংসার।
রক্ত ও হাড় একই উপাদানে, গড়া এ নশ্বর দেহ,
বিভেদ সেখানে বুনেছে কেবল— স্বার্থের তরে কেহ।
পরিচয় মানে পদবী তো নয়, পরিচয় মানে বোধ,
বিভেদের বিরুদ্ধে মনে জাগুক অজিকা— জ্ঞানের প্রতিরোধ।
ঘৃণা সরিয়ে চিনে নাও আজ— মানুষ নামের প্রাণ,
সবার উপরে সত্য ও প্রেম, মানুষের জয়গান।
তিল তিল করে মানুষ হয়েই, জগৎ করো রে জয়,
অস্তিত্বের আগে বড় কথা— মানুষ হওয়াটাই হয়।
নামের বাইরে সত্তা
- A Bengali Poetry On Freedom By Avijit Ghosh
নামের আড়ালে হারিয়েছে মানুষ, মিথ্যে চেনা ওই দাগ,
বাইরে কেবল আঁকিবুঁকি সব— মিথ্যে মনের রাগ।
পরিচয় মানে উপাধি তো নয়, নয় কো সস্তা ডাক,
নামের খাঁচাটা ভেঙে ফেলে আজ— মানুষটা শুধু থাক।
অক্ষর দিয়ে মানুষ চেনা কি— আদপেও সম্ভব?
ভিতরে তোমার লুকিয়ে রয়েছে— প্রাণেরই মহোৎসব।
কাগজে যা লেখা, সে তো শুধু নাম, ফুরোলেই হবে শেষ,
নামহীন সত্তা জেগে উঠুক— ঘুচিয়ে মলিন রেশ।
নিজেরে চেনাটাই আসল শিক্ষা, নিজেরে বোঝাই কাজ,
নামেরই বাইরে দাঁড়িয়ে আছে— তোমার আপন সাজ।
মানচিত্রের ভুল রেখা
- A Bengali Poetry On Freedom By Avijit Ghosh
মাটির উপরে দাগ টেনে আজ, করেছ কি দেশ ভাগ?
কাটাতারে কভু মোছা যায় বলো— হৃদয়ের অনুরাগ?
একই হাওয়া আর একই তো জল, একই সূর্যের আলো,
বেড়া দিয়ে কেন মানুষের মাঝে— জ্বেলেছ মন্দ ভালো?
মাটি ভাগ হয়, আকাশ কি হয়? বিভক্ত হয় প্রাণ?
সীমানা সরায়ে শোনো মানুষের— চিরন্তন জয়গান।
কাগজে আঁকা ওই ভুল রেখা, মুছে যাক আজ টানে,
অখণ্ড প্রেম জেগে থাক শুধু— আমাদের এই মনে।
মানুষে মানুষে দেয়াল তোলা কি— মানুষের কাজ হয়?
মানচিত্রের সীমানা ছাড়িয়ে— মনুষ্যত্বের জয়।
অনুমতির শৃঙ্খল
- A Bengali Poetry On Freedom By Avijit Ghosh
মতামত দিতে অনুমতি কেন? চিন্তায় কিসের ভয়?
শিকল ভাঙলে তবেই জেনো— খাঁটি মানুষের জয়।
মগজ তোমার বন্দি করেছ— নিয়মের বেড়াজালে,
সত্য কি আজ থমকে দাঁড়াবে— মিথ্যে সময় কালে?
বলতে চাইলে ঠোঁটে কেন বাধা? কিসের এতো ত্রাস?
মুক্ত চিন্তা কেড়ে নিলে হয়— মানুষের সর্বনাশ।
অনুমতি নিয়েই ভাবতে যদি হয়, তবে কি সে প্রাণ থাকে?
দাসত্ব শুধু গ্লানি বয়ে আনে — আঁধার যে মন ঢাকে।
বুদ্ধির টানে শিকল ভাঙুক, খুলুক মনের দ্বার,
নিজের ভাবনায় স্বাধীন মানুষ— শ্রেষ্ঠ এ সংসার।
মান্যতার ছায়া
- A Bengali Poetry On Freedom By Avijit Ghosh
বড়দের কথা মান্য করাই— চিরকাল চলে পাঠ,
তর্ক করিলেই বেয়াদব হবে— বন্ধ জ্ঞানের হাট।
ভক্তি মানে কি প্রশ্ন হারানো? যুক্তি কি তবে শেষ?
মান্যতার এই শীতল ছায়ায়— গুমরায় নিজ দেশ।
অন্ধের মতো মেনে নেওয়াটাই— যদি হয় বড় নীতি,
জ্ঞানের প্রদীপ নিভবে তো তবে— বাড়বে তো শুধু ভীতি।
ছায়ার আশ্রয়ে নিজেকে লুকানো— সাজে না তো কোনো বীর,
নিজেকে চেনাই আসল শিক্ষা— তবেই তো উন্নত শির।
সম্মান দিও, কিন্তু নিজের— বোধখানা রেখো খোলা,
মানুষ হওয়ার মন্ত্রটি হোক— সত্যের পথে চলা।
নীরব স্বত্ব
- A Bengali Poetry On Freedom By Avijit Ghosh
নিজের মনের মালিকানা কি— অন্যের হাতে থাকে?
অধিকার তবু হারিয়েছে আজ— যান্ত্রিকতার পাকে।
সবই দিয়েছো পরের হাতে— ভাবনা এবং কাজ,
নীরব স্বত্ব কাঁদে যে নিভৃতে— পায় না সে তো সাজ।
চুপ করে থাকা মানেই কি তবে— মেনে নেওয়া সব দায়?
নিজের স্বত্ব রক্ষা করো রে— বুদ্ধির সহায়।
ভেতরে তোমার যে আমিটি আছে— তারে দাও সম্মান,
পরের কথায় নাচবে কেন গো— হারিয়ে নিজের ঘ্রাণ?
মৌনতা মানে আপস নয় কো— হোক সে নীরব শক্তি,
নিজের মালিক নিজে হওয়াটাই— জীবনের পরম মুক্তি।
ভাবনার নিষিদ্ধ ভূমি
- A Bengali Poetry On Freedom By Avijit Ghosh
যেখানে প্রশ্ন করাটাই মানা, ভাবনায় পড়ে খিল,
সেখানে প্রাণ মেলেনা ডানা, হারায় রঙের মিল।
বেড়া দেওয়া আছে বুদ্ধির পথে, চারীধারে শুধু ভয়,
নিষিদ্ধ এই আঁধার ভূমিতে— হয় না তো সূর্যোদয়।
সত্য কি তবে নির্বাসিত? নিষিদ্ধ হবে খোঁজা?
ভয় দেখিয়ে কি চাপিয়ে দেবে— মিথ্যে শাস্ত্রের বোঝা?
অন্ধকারে যারা বন্দি আজ, আলোয় তাদেরই ভয়,
সীমানা ভেঙে তবেই তো হবে— মহা চেতনার জয়।
মনের প্রাচীর ভাঙো আগে তুমি, খোলো ভাবনার দ্বার,
নিষিদ্ধ বলে কোনো কিছু নেই— এ বিশ্বজগত তোমার।
চেতনার অদৃশ্য কারাগার
- A Bengali Poetry On Freedom By Avijit Ghosh
হাতের মুঠোয় রঙিন জগত, সস্তা সুখের নেশা,
মোবাইল-সুখে মত্ত মানুষ— ভুলছে সত্য-পেশা।
যৌনতা আর তীব্র আমোদ, নিমেষের ওই টান,
চাকচিক্যে ঢাকা পড়েছে আজ— বিবেক এবং প্রাণ।
সংযম নেই নিজের ওপর, নেই তো কর্মে মন,
নিম্ন মানের উত্তেজনায়— বৃথাই কাল হরণ।
ভেতরটাকে গড়ার লড়াই, লড়ছে না তো কেউ,
বাইরে কেবল মিছে আনন্দ— মিথ্যে মোহের ঢেউ।
অদৃশ্য এই কারার মাঝে, নেই তো জাগার রীতি,
নিজেকে চেনার সাধনা কি আজ— শুধুই অতীত স্মৃতি?
সীমান্তের গল্প
- A Bengali Poetry On Freedom By Avijit Ghosh
সাফল্য পেতে পেরোতে হয়— হাজারো বাধার দেয়াল,
জয়ের নেশায় নিয়ম ভাঙে— দুরন্ত এক খেয়াল।
এগিয়ে চলাই আসল ধর্ম, নেই পিছুটান মোটে,
সীমান্তে গিয়ে তবেই তো এক— নতুন সূর্য ওঠে।
পিছন ফিরলে দেখা যায় শুধু— হারানো দিনের স্মৃতি,
যা কিছু গিয়েছে ফিরবে না আর— এই তো ভবের রীতি।
পাবার জন্য ছেড়েছ যা কিছু, সেই তো তোমার দান,
রিক্ততাতেই লুকিয়ে থাকে— বিজয়ীর সম্মান।
সীমা আছে বলেই সীমান্ত আছে— এই তো পরম সত্য,
পথের শেষে নিজের জয়ই— শ্রেষ্ঠ আপন তথ্য।
সময়ের পদচিহ্ন
- A Bengali Poetry On Freedom By Avijit Ghosh
সময় তো কারো থমকে থাকে না, বয়ে চলে অবিরাম,
কর্মের মাঝে লুকিয়ে থাকে— মানুষের আসল নাম।
পথের ওপর যা কিছু আঁকলে, ধুলোয় কি যাবে মিশে?
সঠিক কাজই পথ দেখাবে— ঘোর অন্ধ দিশে।
অলস কাটানো মুহূর্তগুলো— মিছে মরীচিকা শুধু,
সময়ের শেষে পড়ে রবে তা — মরুভূমি খাঁ-খাঁ ধু-ধু।
সংযম আর নিষ্ঠা দিয়ে— সয়ে কত শত তাপ,
সময়ের বুকে সেই তো ছাড়ে— আপন প্রাণের ছাপ।
পদচিহ্ন মুছবে না তো— যদি কাজ হয় খাঁটি,
সময়ের দানে ধন্য হবেই— এই বাংলার মাটি।
অন্নশিখা - গ্রাম, কৃষক, উৎপাদক ও আত্মসম্মান
মৃৎশয্যার আহ্বান
- A Bengali Poetry On Farmer Empowerment By Avijit Ghosh
শহর ছেড়ে মাটির টানে— ফিরেছে আপন প্রাণ,
মৃৎশয্যা আজ দিচ্ছে দেখা— ভোরের মিঠে গান।
ইঁট-পাথরের খাঁচা ভেঙে— ধুলোয় মেশার সুখ,
আদিম এই মটির ঘ্রাণে— শান্ত হয় যে বুক।
এই সে মাটি সোনার চেয়ে— অনেক বেশি দামী,
এখানেই তো ঘুমিয়ে আছে— আমার আসল আমি।
ভিটেমাটির ডাক শুনে আজ— সব হলো যে তুচ্ছ,
মৃত্তিকাতেই খুঁজে পাবো— প্রাণের জয়ের গুচ্ছ।
যে পরশমণির খোঁজে মানুষ— ঘোরে দেশ-বিদেশ...
আমার মাটির পরশেই সেই সকল তৃষ্ণার শেষ।
পল্লীর অন্তঃস্বরে
- A Bengali Poetry On Farmer Empowerment By Avijit Ghosh
বাঁশের মাচায় পুকুর ধারে— বসে মাছ ধরি,
হাঁসের দলের চরে যাওয়া— দুই চোখেতে ভরি।
ভোরের বেলা ঘুম ভাঙালে— জুঁই ফুলের ঘ্রাণ,
কাদা-গোবরের সোঁদা গন্ধে— জুড়িয়ে যায় প্রাণ।
বটতলায় ওই বসে থাকে— দখিন হাওয়ার বাঁশি,
কাজ-কর্মের বালাই নেই— মুখে পরম হাসি।
আটটা বাজলে গ্রামটি যেন— গভীর রাতের দেশ,
আড্ডাশেষে ঝিঁঝিঁ ডাকে— শান্তির নেই শেষ।
নারকেল আর সুপারি বনে— মাতাল করে হাওয়া,
চাঁদ দেখতে দেখতে ছাদে— গভীর ঘুমে পাওয়া।
শস্যভূমির স্মরণ
- A Bengali Poetry On Farmer Empowerment By Avijit Ghosh
সোনার বরণ মাঠের বুকে— রোদের খেলা চলে।
শস্যভূমির আদিম কথা— উদাস হাওয়ায় বলে।
সবুজ ধানের নাচন দেখে— জুড়িয়া যায় চোখ।
মাটির ঋণে ধন্য হয় এই সমগ্র ভুলোক।
রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে— খাটে কৃষক ভাই।
ফসলের ওই গন্ধ ছাড়া— পরম সুখ নাই।
ঘাম ঝরানো পরিশ্রমেই— ভরে ওঠে গোলা।
মাটির মায়ায় প্রাণটি থাকে— সদাই যে পথভোলা।
লক্ষ্মীর ওই পায়ের ছাপ— আলপথেরই ধারে।
শস্যভূমির দানকে স্মরি— বিনম্র আচারে।
ধরণীর বুকে প্রত্যাবর্তন
- A Bengali Poetry On Farmer Empowerment By Avijit Ghosh
প্রগতির দোহাই দিয়ে কারখানাতে মানুষ বানালে দাস।
টাকার খোঁজে শহর এসে হারালো প্রাণের আশ।
অন্নে বিষ আর বাতাসে বিষ, বিষে ভরা ঐ জল।
পায়রার খোপে জীবন কাটে, শরীর যে আজ অচল।
পাশের ঘরের মানুষটিও চেনে না নিজের পর।
টাকা থাকলে সবাই আপন, না থাকলে সবই পর।
পয়সা কামাতে জীবন ফুরায়, জীবন বাঁচে না টাকাতে।
কাজের চাপে মানুষ আজ ভুলেছে সুখে থাকতে।
বাঁচার জন্য কাজ করো শুধু, কাজের জন্য বাঁচা নয়।
মাটির কোলে ফিরে চলো, সেখানেই পরিচয়।
ক্ষেত্রজ জন্মকথা
- A Bengali Poetry On Farmer Empowerment By Avijit Ghosh
যান্ত্রিক এই খাঁচা আজ— কেড়েছে প্রাণের সুখ।
শহুরে ওই ভিড়ের মাঝে— সবাই যে আজ বিমুখ।
মাটির সাথে বিচ্ছেদেই— ঘটেছে এই পতন।
শিকড় ছেড়ে হারিয়ে গেছ— ভুলেছ আপন রতন।
শ্রম দিচ্ছ অন্যের তরে— পাচ্ছ কেবল ঘানি।
নিজের হাতে ফসল ফলাও— তবেই মুক্তি জানি।
কারখানাতে মজুর হয়ে— নষ্ট করছ আয়ু।
মাঠের কাজে শরীর জুড়ায়— শুদ্ধ অবিরল বায়ু।
নিজের অন্ন নিজের হাতে— ফলানোই সম্মান।
মৃত্তিকার এই জন্মকথায়— জাগুক তবে প্রাণ।
লাঙ্গলের মৌন ভাষ্য
- A Bengali Poetry On Farmer Empowerment By Avijit Ghosh
লোহার ফলায় মাটি চিরে জাগে— নতুন প্রাণের গান।
মৌন এই লাঙ্গল যে দেয়— মাটির আসল মান।
যন্ত্রের ঐ চিৎকার নেই— আছে যে গভীর টান।
লাঙ্গলের এই ফলার নিচে— সার্থক হয় দান।
দাস হয়ে আর খাটো কেন— অন্যের ওই ঘরে?
মাঠের কাজে সম্মান আজ— নিজের হাতের জোরে।
রৌদ্র-পোড়া শ্রমে তোমার— অমূল্য ওই হাসি।
নিজের হাতে লাঙ্গল ধরলে— কাটে মোহের ফাঁসি।
লাঙ্গল শুধু ফলায় না ফসল— ফলায় আত্মবিশ্বাস।
মাটির সাথে মৈত্রীতেই— কাটুক সকল ত্রাস।
বীজব্রতের সূচনা
- A Bengali Poetry On Farmer Empowerment By Avijit Ghosh
ধরিত্রীর এই অঢেল করুণা, আমরা পেয়েছি হেলাফেলায়।
নিজ হাতে গড়ি সংকট আজি, বিলাস ও মোহের খেলায়।
সুযোগ বুঝিয়া ধূর্ত চতুর, কুক্ষিগত করে ধরারে।
বিনে পয়সার ঐশ্বর্য লুটে, পণ্য বানায় তাহারে।
প্রকৃতির অন্ন মোড়কে সাজায়ে, ওরা হাসে আজ জয়ের হাসি।
মুনাফার তরে পরানো হইল, ধরনীর গলে দাসত্ব ফাঁসি।
রৌদ্রের আঁচ দহিছে ভুবন, ধূসর হইয়াছে বনানী।
এখনও কি মোরা বুঝিব না হায়, আগত বিনাশের হাতছানি?
এসো এক সাথে রোপণ করি আজ, আগামী দিনের সম্ভাবনা।
আত্মশক্তির জোরে রুখে দিই, সকল শোষণের প্ররোচনা।
মৃত্তিকার সঙ্গে অঙ্গীকার
- A Bengali Poetry On Farmer Empowerment By Avijit Ghosh
জননী-সম এই ধরণীর সাথে, বাঁধলাম আজি শপথের ডোর।
নিজের মরণ রুখতে এবার, ঘুচাতে হবে অমানিশা ঘোর।
যে মাটি অকাতরে জোগায় অন্ন, দেব না তাহারে বিষের জ্বালা।
শ্যামলিমা দিয়ে আবার সাজাব, মাটির গলার মলিন মালা।
বণিক-বৃত্তির নিঠুর থাবা, হটাবো এবার সাহসে ভরে...
শুদ্ধ বাতাস ফিরবে আবার, আমাদেরই এই মাটির ঘরে।
তপ্ত বসুধার দীর্ঘশ্বাস, রুখব মোরা সংহতি বলে।
প্রকৃতি বাঁচলে আমরাও বাঁচব, এই ধ্রুব সত্য বুকেতে জ্বলে।
অনাগত সেই শিশুদের তরে, রেখে যাব এক সুস্থ ধরা।
মৃত্তিকার এই অঙ্গীকারে, ঘুচবে এবার প্রাণের জরা।
অগ্নিবীজের স্ফুরণ
- A Bengali Poetry On Farmer Empowerment By Avijit Ghosh
বুকের মাঝে সুপ্ত যে তেজ, জাগুক এবার রুদ্র টানে,
অগ্নিবীজের স্ফুলিঙ্গ আজ, মুক্তি খুঁজুক নতুন গানে।
মায়ার বিভ্রম নাশিয়া নবীন, মেলুক এবার আপন ডানা,
মৃত্তিকার এই চরম বিপদে, আর তো ঘরে থাকা চলে না।
ধূর্ত শ্রেণির পণ্যের জালে, বন্দি কেন আজ আপন দেশ?
শোষণ-শৃঙ্খল ভেঙে এবার, আনো বাঙালির সাহসের রেশ।
তপ্ত আকাশ পুড়ছে ভীষণ, গুমরে মরেছে বসুধা জননী,
শান্তি ফেরাতে জাগো হে তরুণ, তোলো প্রতিবাদের বজ্রধ্বনি।
বিবেকের দীপ জ্বালো আঁধারে, আসুক তবে নতুন ভোর,
আত্মশক্তির পরশ বুলিয়ে, কাটো দাসত্বের বাঁধন ঘোর।
পল্লীপ্রাণের গান
- A Bengali Poetry On Farmer Empowerment By Avijit Ghosh
ধানের ক্ষেতে বাতাসের দোলা, সোঁদা মাটির ঘ্রাণ,
শহুরে বিষের বালাই নেই, শান্ত পল্লীপ্রাণ।
বকুল তলায় দুপুরের ছায়া, মেঠো পথের বাঁক,
নিখাদ রোদে ডানা ঝাপটায় লক্ষ্মীপেঁচার ডাক।
মুক্ত বাতাস, স্বচ্ছ আকাশ, নেই তো ধোঁয়ার লেশ,
সবুজ আঁচলে পরম মমতা, স্নিগ্ধ রূপের দেশ।
ঘোষ পুকুরে শৈবাল ভাসে, নিথর নীরব ঘাট,
শৈশবস্মৃতি ফিরে আসে, সেই নির্জন মাঠ।
জোনাক জ্বলা নিঝুম রাতে নেই কোনো কৃত্রিমতা,
পাখির গানেই লুকিয়ে আছে জীবনজয়ের গাঁথা।
সুপ্তাগ্নিশিখা - ভাঙা ব্যবস্থা, নীরব বিদ্রোহ ও বিবেকের ঝুঁকি
শাসনছায়ার অন্তরালে
- A Bengali Poetry On The Fire Inside By Avijit Ghosh
বাইরে পালিশ করা দেওয়াল, ভেতরে সবটা বালির ঘর,
নিয়ম যেথা পাহারা দেয়, মানুষ সেখানে বড্ড পর।
সিংহাসনের পায়ের তলায় সত্য যখন গুমরে মরে,
বিচার তখন বন্দী থাকে মস্ত বড় দালান ঘরে।
কাগজে লেখা উজ্জ্বল কথা, বাস্তবে সব উল্টো ছবি,
রোদ পোহানোর নাম করে আজ আঁধার মাখে শোষক-রবি।
মুক্তির নামে মায়ার জালে পা দিয়েছি আমরা সবাই,
অধিকারের লড়াই শেষে নিজের ঘরেই ঠাঁই যে নাই।
শৃঙ্খলকে গয়না ভেবে মানুষ হাসে সুখের ছলে,
আসল শোষক লুকিয়ে থাকে মস্ত বড় কথার কলে।
শাসনের এই শীতল ছায়ায় রক্ত যখন হিম হয়ে যায়,
বিবেকের সেই বিচার তবে কোন সাগরে আশ্রয় পায়?
বিধিবদ্ধ অন্ধকার
- A Bengali Poetry On The Fire Inside By Avijit Ghosh
শিক্ষা আজি শিকল ভারী, দাস বানানোর মস্ত কল...
প্রশ্ন তোলা বারণ সেথা, রুদ্ধ প্রাণের সকল বল!
মুষ্টিমেয় কজন লোকের হাতের মুঠোয় বন্দি দেশ...
আইন শুধু শোষক তোষণ শাসনের এক ছদ্মবেশ।
পুরনো সেই কেতাবী প্যাঁচ স্বার্থসিদ্ধির নিপুণ জাল,
মানুষেরই ভুলকে সাজায় - ভগবানের ভাগ্যকাল
একজনেরই হাতের মুঠোয় অসীম ক্ষমতার চাবিকাঠি
অধিকার সব লুটে নিয়ে বিচে দিচ্ছে নিজের মাটি!
ব্যবস্থার এই জটিল পাকে মানুষ আজি দিশেহারা...
সাজানো এই অন্ধকারে ডুবছে জাতি লক্ষ্যহারা!
নীরবতার অভিষেক
- A Bengali Poetry On The Fire Inside By Avijit Ghosh
একবার যদি পায় রে গদি বিচার করার সাধ্য কার?
প্রশ্ন তুললে রাষ্ট্রদ্রোহী জুটবে কপালে অত্যাচার।
খুন আর ধর্ষণের উৎসবে আজ শাসকের দল ঝাড়ছে হাত,
দুষ্টু লোকের ঘাড়ে দোষ ঠেলে কাটছে তাদের আয়েশী রাত।
আফিম-মদ আর বালির পাচার ক্ষমতার এক নগ্ন রীতি,
ভাতার ভিখারী হয়ে বাঁচাই কি বাঙালির নব সংস্কৃতি?
ফ্রি রেশনে মিটছে খিদে ভুললে আপন জাতির মান,
ভিক্ষার তরে অন্যায় সহে এই কি তোমার আত্মসম্মান?
জাগো রে ভীরু কাটো রে জাল - ঘুচিয়ে এই ভিখারি দশা,
নতুবা মিছেই মানব জনম, সাজাবে কি শুধু শ্মশান-মশা?
অনুমোদিত বিস্মৃতি
- A Bengali Poetry On The Fire Inside By Avijit Ghosh
সংবিধান ও শাসন ব্যবস্থা মানুষেরই গড়া খেলা,
আইনের ফাঁকে স্বার্থ লুকায়, সত্যের অবহেলা।
নেতা ও মন্ত্রী, আমলাতন্ত্র—সবই তো দাসের ফাঁদ,
মৃতের লিখন কেন তবে আজ রুধবে মুক্ত স্বাদ?
মহাপুরুষও তো রক্ত-মাংসের, ছিল কি ভবিষ্যৎ-দ্রষ্টা?
ভুল বা চাপে কি হয় না লিপি? কেন তবে এই তুষ্টা?
বারো বছরের শিক্ষা দিয়েও শেখায়নি অধিকার,
অতীতের ওই বুড়ো মহাজন কেন মালিক আপনার?
স্বতন্ত্র মনে অভিনবত্ব—আমরা তো নই ভেড়া,
যাদের সঁপিলে রাজ-অধিকার, কেন দিলে না পাহারা?
ক্ষমতার নীরব সিংহাসন
- A Bengali Poetry On The Fire Inside By Avijit Ghosh
লজেন্স কিনলে ট্যাক্স দাও তুমি, ট্যাক্স দাও চায়ে-নুনে,
তোমারি টাকায় নেতার বিলাস, দিন কাটে সুখ গুনে।
ভোটের বাজারে ভাতার লোভে নিজেকে সস্তায় বেচো,
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য শ্মশানে পাঠিয়ে নিজেরি বিপদ সেঁচো।
সরকারি স্কুল-হাসপাতাল আজ ধ্বংসের পথে হাঁটে,
তোমারি টাকায় রাজা সেজে নেতা রাজকীয় যানে ছোটে।
পকেটে টাকা থাকলে বিচার, নইলে তারিখের ফাঁদ,
এসি ঘরে বসে তামাশা দেখে সে, মেটায় মনের স্বাদ।
মিডিয়া কিনে সে নাটক সাজায়, মিথ্যায় ভরে দেশ,
প্রশ্ন করো আজ নিজের হকের, নয়তো সব শেষ।
প্রথার নীচে জমাট ক্ষত
- A Bengali Poetry On The Fire Inside By Avijit Ghosh
প্রথার দোহাই দিয়ে আজও চলে স্বপ্নের বলিদান,
অন্ধ আচারে শিকল পরায়, হরে নেয় স্বাভিমান।
বাপ-ঠাকুরদা করেছে যা আগে, আজও কেন সেই পথ?
মৃত মানুষের নিয়ম কি তবে চালাবে জীবন-রথ?
ভিন্ন মানুষে ভিন্ন মেধা ও স্বকীয় চিন্তা-ধারা,
প্রথার চাপেতে পিষ্ট মানুষ—কেন হবে লক্ষ্যহারা?
একই ছাঁচেতে সবাইকে আজ গড়ার যে আয়োজন,
অভিনবত্ব মরে তিলে তিলে—এ কি তবে প্রয়োজন?
প্রথা নয় কোনো পবিত্র নীতি, এ তো এক পচা ক্ষত,
মৃতের শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেলো আজ—ঘুচুক এ দাসত্ব।
মৌনতায় স্বাক্ষরিত সময়
- A Bengali Poetry On The Fire Inside By Avijit Ghosh
চোখের সামনে অন্যায় ঘটে, তবুও কেন চুপ?
তোমার নীরবতা খুনিকে দিচ্ছে নতুন এক স্বরূপ।
পশুত্ব যখন নখ বসায় মানুষের এই সম্মানে,
কাপুরুষ হয়ে ঘরে বসে থাকা—লাগে না কি স্বাভিমানে?
স্বার্থের টানে মুখে কুলুপ, কিসের এতো ভয়?
চুপ থাকা মানে পাপিষ্ঠদের নিশ্চিতই এক জয়।
সময় সব লিখে রাখছে, সাক্ষী তো ইতিহাস—
মৌন থাকাই প্রমাণ করবে ভাগ্যের পরিহাস।
প্রতিবাদহীন ওই মাথা আজ ধুলোয় মিশেছে শোনো,
চুপ থাকা তো নির্লজ্জতা—ক্ষমা পাবে না কখনো।
বৈধতার অন্তঃসারশূন্যতা
- A Bengali Poetry On The Fire Inside By Avijit Ghosh
কাগজে কলমে নিয়ম অনেক, বাইরে চটক ভারী,
ভেতরটা তার ঘুণে খাওয়া—ন্যায়ের সাথে আড়ি।
আইন কেবল জালের মতো, ছোট মাছেরা পড়ে ধরা,
রাঘব বোয়াল পার পেয়ে যায়—পাপের বিষে ভরা।
শোষণের নাম বৈধতা আজ, মিছেই বিচার চাওয়া,
ক্ষমতার ওই প্রাসাদ ঘেরা—সবই সাজানো হাওয়া।
ন্যায়ের মন্দির পাথর আজ, নেই তো প্রাণের লেশ,
আইনের দোহাই দিয়ে তারা ছারখার করে দেশ।
ভিতরে শ্মশান লুকিয়ে রেখে—বাইরে কেন সাজ?
অধিকার নয়, শৃঙ্খলকে কি 'আইন' বলছো আজ?
শৃঙ্খলার মৃত সুর
- A Bengali Poetry On The Fire Inside By Avijit Ghosh
নিয়ম কি তবে শিকল কেবল, আষ্টেপৃষ্ঠে দড়ি?
বিবেক বেচে কি শ্মশানের মাঝে সাজাও নিজের তড়ি?
আচারের চাপে মুক্ত চিন্তা কেন আজ ম্রিয়মাণ?
জাঁতাকলে পিষে মেধার আলোক—ও কি তব জয়গান?
শান্তি মানে কি চির-মৌনতা? ও তো শ্মশানেরই ছাই,
কবর সাজায়ে শৃঙ্খলা বলো—সেখানে তো প্রাণ নাই।
পাথরের মতো জড়তা কি তবে ধর্মেরই জয়ধ্বনি?
জ্যান্ত মানুষ পিঞ্জরে রুদ্ধ—একী নিঠুর মহিমা-মণি?
বিদ্রোহী প্রাণ ডানা না মেলিলে পাবে কি মুক্তির স্বাদ?
ছন্দ না মিলিলে জীবন বৃথা যে—সবই অবসাদ।
বিধির মুখোশপরা মুখ
- A Bengali Poetry On The Fire Inside By Avijit Ghosh
অদৃষ্টের দোহাই কেন? ও কি কোনো রাজ-আজ্ঞা?
নাকি কারো গড়া মায়ার জালে শোষণের এক সংজ্ঞা?
বিধির বিধান বলে যা মানো, ও কি মহাকালের গান?
নাকি ভীরু করে রাখতে তোমায়—চতুর কোনো বিধান?
পরের লিখন কেন বইবে আজ নিজের ললাট-ঘামে?
ব্যবস্থা কেন শাসন চালায় কেবল ধর্মের নামে?
মুখোশধারী ওই দাতা আসলে—ছদ্মবেশী এক কাল,
পুণ্যের ছলে বুনে রেখেছে—মিথ্যে মায়ার জাল।
বিধাতা তোমায় স্বাধীনতা দেয়, দেয়নি কোনো খাঁচা,
শৃঙ্খল ছিঁড়ে তবেই দেখাও—কাকে বলে আজ বাঁচা!
বঙ্গজাগরণ - বাঙালির আত্মপরিচয়, ঐতিহাসিক নেতৃত্ব ও মহত্ত্বের পুনর্জাগরণ
বঙ্গাত্মার পুনঃসম্ভাষণ
- A Bengali Poetry for Resurgence Of The Bengali By Avijit Ghosh
আপনারে চেনা কি তবেই কঠিন, আপন ঘরের কোণে?
বিস্মৃতি কেন ছায়া ফেলে আজ বাঙালির এই মনে?
ইতিহাস শুধু ধুলোর পাহাড়, নাকি সে প্রাণের স্রোত?
নিজেরে হারায়ে কেন তবে আজ জাগিছে না প্রতিরোধ?
বিস্মিত চোখে চাহিছো কোথায়? সত্য যে তব পাশে,
শক্তির বীজ সুপ্ত রয়েছে তোমারি অট্টহাসে।
পরের ছায়ায় নিজেরে খুঁজিলে মিলিবে কি পরিচয়?
বাঙালি কি তবে নিজেরেই আজিকে করিতেছে অতি ভয়?
জাগাও হে প্রাণ, ঘুচাও আজিকে জড়তার এই ম্লান,
নিজেরে চিনিলে তবেই মিলিবে মুক্তির জয়গান।
জাতিস্মৃতির দীপশিখা
- A Bengali Poetry for Resurgence Of The Bengali By Avijit Ghosh
অতীত কি তবে কেবলি ছাই, মরা এক ইতিহাস?
নাকি সে প্রদীপ জাগাতে শেখায় জীবনের বিশ্বাস?
স্মৃতিরে জাগাও, ধুলোর তলে যে লুকানো প্রজ্ঞালোক,
বাঙালির জয় ললাটে আবার ঘুচাক সকল শোক।
বিস্মরণ কি মরণ কেবল? ও তো এক মোহ-ঘুম,
জাগিলে দেখিবে সত্যের মাঝে বীরত্বেরই ধুম।
দীপশিখা জ্বেলে চিনে নাও তবে নিজেরই আসল রূপ,
বাঙালির মেধা বিশ্বের দ্বারে কেন হবে নিশ্চুপ?
নিজেরে খুঁজিয়া পাইলে তবেই ঘুচিবে গ্লানির রাত,
দীপ্ত শিখায় জয়ী হউক বাঙালির আভিজাত।
পূর্বসূরির অম্লান পদচিহ্ন
- A Bengali Poetry for Resurgence Of The Bengali By Avijit Ghosh
ধুলোর শাসনে হারালো কি তবে মহান সে পরিচয়?
স্মৃতি কি কেবল অতীতের ভার, নাকি সে অগ্নিময়?
যাঁদের চরণে ধন্য এ ধরা, তাঁদের কি চেনা দায়?
শিকড় ছিঁড়িলে নিজেরে খুঁজিবে কোন্ সে অলীক ছায়?
পরের শিখানো বুলি কেন তবে আপন কণ্ঠে বাজে?
বিস্মৃতি কেন বীরের রক্তে কলঙ্ক-রেখা সাজে?
পাথরের বুকে খোদিত রয়েছে পূর্বের সেই স্বর,
নিজেরে চিনিলে ঘুচিয়া যাইবে হীনতার এই ডর।
পূর্বপুরুষের আভিজাত্যই তোমার আসল জ্যোতি,
স্মৃতি না জাগিলে মিলিবে না কভু অজেয় সে মহামতি।
ইতিহাসে প্রত্যাবর্তনের গান
- A Bengali Poetry for Resurgence Of The Bengali By Avijit Ghosh
শশাঙ্ক-পাল-সেন যুগের সেই শৌর্যের ইতিহাস,
বাঙালির রক্তে আজও জাগায় বীরত্বের বিশ্বাস।
বিজয়সিংহের সিন্ধু-জয়, ধর্মপালের দান,
বিশ্ব-সভায় আজও অজেয় বাঙালির আত্মমান।
বিদ্যাসাগরের করুণা আর বিবেকানন্দের প্রজ্ঞা,
জাতির ললাটে এঁকেছে এক দৈব মহৎ সংজ্ঞা।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কিংবা সুভাষের সেই ডাক,
বাঙালির জয়-ইতিহাসে চির-ভাস্বর থাক।
ইতিহাস মানে ধুলো নয়, ও যে বীরের রক্ত-বিন্দু,
যাঁদের চরণে মিশে আছে আজ বাঙালির মহাসিন্ধু।
বঙ্গভূমির অখণ্ড উচ্চারণ
- A Bengali Poetry for Resurgence Of The Bengali By Avijit Ghosh
একই মৃত্তিকা, একই তো জল, একই নদীর টান,
তবে কেন আজ বাঙালির মনে খণ্ডিত অভিমান?
ভাষার বাঁধন ভাঙবে কেমনে, এক যে সত্তা-সুর,
বিভেদের বিষে কেন তবে আজ আপন হয়েছে দূর?
গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনা মিশেছে বঙ্গসাগর-কূলে,
ভাগ করেছ কি মায়ের আঁচল আত্মপরিচয় ভুলে?
মানচিত্রের কাঁটাতার কি গো আত্মারে বেঁধে রাখে?
বাঙালির প্রাণ এক হয়ে আজও মাটির মমতায় ডাকে।
ঐক্যই হোক মূল মন্ত্র, মিলনই পরম ধর্ম,
অখণ্ড ভূমি ফিরাইয়া লওয়াই বাঙালির শ্রেষ্ঠ কর্ম।
জাতিসত্তার মৌন গর্জন
- A Bengali Poetry for Resurgence Of The Bengali By Avijit Ghosh
নিথর সাগর মানে কি তবে সে ভীরু ও শক্তিহীন?
স্তব্ধতা মাঝে লুকানো থাকে যে অজেয় এক দিন।
বাঙালির ওই নীরবতা যে মহাপ্রলয়ের সাজ,
বজ্র-গর্ভে লুকানো যেমন রুদ্র-দীপ্ত কাজ।
সহিষ্ণুতা যে ভীরুতা নয় গো, ও তো বীরের ধর্ম,
শান্তির আড়ালে জেগে আছে এক দুর্জয় রণকর্ম।
নিজেরে চেনো হে, নিজেরে জানো হে, ভুলো না আপন মান,
জাগিলে বাঙালি স্তম্ভিত হবে বিশ্বের অভিমান।
মৌনতা তব হোক আজিকে শক্তির প্রতিরোধ,
বাঙালির জয় বার্তা লিখিবে অন্তরের এই বোধ।
স্মৃতিধারায় নেতৃত্ববোধ
- A Bengali Poetry for Resurgence Of The Bengali By Avijit Ghosh
স্মৃতি কি কেবল মরা ইতিহাস? ধূসর কোনো পাতা?
নাকি সে জাগায় রক্তে আজও বীরত্বের রূপকথা?
পূর্বজদের প্রজ্ঞা আজিকে হোক তব মূল শক্তি,
নেতৃত্ব তো দাপট নয়, দায়িত্ব আর ভক্তি।
যাঁদের চরণে ধন্য এ ধরা, তাঁদের স্মরণ করো,
তাঁদের তেজেতে আগামীর তরে বজ্র-মুঠিতে ধরো।
স্মৃতিধারা হোক আঁধার পথের ধ্রুবতারা সম আলো,
সেই আলোতেই বাঙালির তরে নতুন প্রদীপ জ্বালো।
অতীতের ওই শিক্ষা লইয়া হও আজ একনিষ্ঠ,
নেতৃত্বই হোক বাঙালির - ত্যাগের পরম ইষ্ট।
ঐতিহ্যের আত্মমর্যাদা
- A Bengali Poetry for Resurgence Of The Bengali By Avijit Ghosh
নিজেরে হারায়ে পরের অনুজ কেন আজ হতে চাও?
বাঙালির সেই প্রাচীন শৌর্য কেন ফিরে নাহি পাও?
বিদেশের ওই নকল দীক্ষায় কেন আজ মাথা নীচু?
এ ঐতিহ্য তো তোমারি সম্পদ—ছুটছো কাহার পিছু?
কৃষ্টি তোমার শ্রেষ্ঠ অর্ঘ্য, সংস্কৃতি তব প্রাণ,
শৈল্পিক সেই উত্তরাধিকার রক্ষা করাই মান।
শাড়ি কিম্বা ধুতি, তুলি ও লেখনী—বাঙালির নিজ সাজ,
পরের চরণে বিলিয়ে নিজেকে কেন এ ললাটে লাজ?
নিজের ঐতিহ্যে জাগো হে বাঙালি, রাখো উন্নত শির,
মর্যাদাই যে পরম সম্পদ—ঐতিহ্যে থাকো স্থির।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সংকল্প
- A Bengali Poetry for Resurgence Of The Bengali By Avijit Ghosh
শপথ নিলাম, আকাশ ছোঁব—মাটির শিকল ছিঁড়ে,
নতুন সূর্য আনব ফিরিয়ে বাঙালির এই নীড়ে।
অতীত থাকুক স্মৃতির কোণে, আমরা চলব আগে,
নবীন রক্তে নতুন দেশের স্বপ্ন যেন জাগে।
না পাবো ভয়, না হবো ক্লান্ত—দৃঢ় চরণে চলি,
আমরাই হব আগামীর সেই অমর পদাবলি।
জ্ঞানের আলোয় মুছব আঁধার, সত্যের পথে জাগি,
বাঙালির এই শ্রেষ্ঠত্বে আমরাই অনুরাগী।
নিজের সাথে নিজের লড়াই, বিজয়ই পরম লক্ষ্য,
নব বাংলার শৌর্যে অটল বাঙালির এই বক্ষ।
নব বাংলার উদয়
- A Bengali Poetry for Resurgence Of The Bengali By Avijit Ghosh
ভেঙেছে আঁধার, খুলেছে দুয়ার, এসেছে নতুন ভোর,
কাটিয়া গিয়াছে বাঙালির যত দীর্ঘ নিশার ঘোর।
মৃত্তিকা আজ শস্য-শ্যামলা, আকাশে রঙের মেলা,
সাঙ্গ হইল বাঙালির সেই বিষাদ-শোকের খেলা।
শিল্পে ও জ্ঞানে, ত্যাগে-সাধনায় জাগিছে আপন দেশ,
পুরাতন গ্লানি মুছে দিয়ে ধরো রাজকীয় নব বেশ।
ঘরে ঘরে আজ আনন্দের হাসি, কণ্ঠে জয়ের গান,
বিশ্ব-মাঝারে বাঙালি আজিকে ধরিল শ্রেষ্ঠ স্থান।
সংহতি হোক মূল মন্ত্র, ঐক্যই শ্রেষ্ঠ জয়,
নব বাংলার উদয় আজিকে—অজেয় ও অক্ষয়।
Across more than 100 Bengali poems, Avijit Ghosh explores themes of women’s empowerment, youth awakening, Bengali cultural identity, revolutionary consciousness, self-reliance, entrepreneurship, spiritual inquiry, physical strength, freedom, responsibility, and resistance against social, psychological, and civilizational decline through a contemporary philosophical and literary perspective rooted in Bengali thought and expression.
His literary work reflects a deep engagement with the emotional, cultural, and intellectual realities of modern society while simultaneously drawing attention toward the enduring values of courage, discipline, inner clarity, character, and collective awakening. Several poems explore the contrast between the increasingly transactional and psychologically fragmented nature of modern urban existence and the simplicity, emotional richness, grounded consciousness, and human authenticity often preserved within Bengali village life and traditional community structures.
Alongside social and cultural themes, his poetry places significant emphasis on the dignity of farmers, the importance of food producers as foundational pillars of civilization, and the necessity of reconnecting younger generations with self-sufficiency, productive contribution, physical resilience, and responsibility toward society. His work on youth empowerment frequently encourages intellectual independence, fearless thinking, disciplined action, entrepreneurial self-reliance, and the development of individuals capable of contributing meaningfully beyond passive consumption-driven culture.
A recurring dimension within his literary philosophy is the exploration of consciousness, dharma, inner divinity, and the relationship between human beings and higher awareness beyond ritualistic or purely external interpretations of religion. Through symbolic, reflective, and emotionally layered poetic expression, his work often presents the idea that real transformation begins within the individual through self-awareness, inner strength, disciplined living, and conscious evolution.
Themes of freedom and revolution within his poetry are approached not merely as political concepts, but as responsibilities connected to truth, moral courage, social awareness, and resistance against systems that weaken human dignity, consciousness, creativity, and independent thought. Through references to Bengali revolutionary spirit, historical memory, cultural resilience, and civilizational reflection, his literary work seeks to preserve a deeper sense of identity, purpose, and awakening within contemporary society.
As an Indian polymath and multidisciplinary creator working across philosophy, literature, music, visual art, education, and entrepreneurship, Avijit Ghosh continues to develop poetry not merely as artistic expression, but as part of a broader long-term intellectual and cultural vision integrating creativity, consciousness, discipline, character development, and multidimensional human potential within a unified body of work.